লিখকঃ মাহাতাব আকন্দ
কুরআন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর। রাসূল নিজে বারবার বলেছেন—তিনি গায়েব জানেন না। অথচ প্রচলিত কিছু হাদিসে বলা হয়—আসমান–জমিন সৃষ্টির এক/দুই হাজার বছর আগে কী লেখা হয়েছিল, কোন সূরা পাঠ করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে রাসূল খবর দিয়েছেন। এতে মৌলিক প্রশ্ন ওঠে: যে রাসূল নিজেই গায়েব জানার দাবি অস্বীকার করেন, তিনি কীভাবে সৃষ্টির বহু হাজার বছর আগের ঘটনাবলি জানলেন?
আরবি:
قُل لَّا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ
বাংলা অর্থ:
“বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার আছে; আর না আমি গায়েব জানি।”
(সূরা আল-আন‘আম ৬:৫০)
আরবি:
قُلْ إِنَّمَا الْغَيْبُ لِلَّهِ
বাংলা অর্থ:
“বলুন, গায়েবের জ্ঞান তো কেবল আল্লাহরই।”
(সূরা ইউনুস ১০:২০)
আরবি:
وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ
বাংলা অর্থ:
“আমি তোমাদের বলি না যে আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার আছে, আর না আমি গায়েব জানি।”
(সূরা হূদ ১১:৩১)
➡️ নবীদের ব্যাপারে নীতি এক—গায়েব জানা তাদের দাবি নয়।
আরবি:
وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ
বাংলা অর্থ:
“আমি যদি গায়েব জানতাম, তবে তো আমি প্রচুর কল্যাণ লাভ করতাম এবং কোনো অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না।”
(সূরা আল-আ‘রাফ ৭:১৮৮)
➡️ রাসূল নিজেই গায়েব-জ্ঞান অস্বীকার করেছেন।
আরবি (সারাংশ):
إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفَيْ سَنَةٍ، أَنْزَلَ مِنْهُ آيَتَيْنِ خَتَمَ بِهِمَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ...
বাংলা অর্থ:
“আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছিলেন; সেখান থেকে দুইটি আয়াত নাযিল করেছেন, যেগুলো দ্বারা সূরা বাকারা সমাপ্ত করা হয়েছে…”
(তিরমিযি, দারেমী; মেশকাত ৫/২০৪২)
আরবি (সারাংশ):
قَرَأَ اللَّهُ طَهَ وَيَس قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفِ سَنَةٍ
বাংলা অর্থ:
“আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির এক হাজার বছর পূর্বে সূরা ‘তা-হা’ ও ‘ইয়াসিন’ পাঠ করেছিলেন।”
(দারেমী; মেশকাত ৫/২০৪৫)
এই হাদিসগুলোতে দাবি করা হচ্ছে—
প্রশ্ন হলো—
আরবি:
إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰ إِلَيَّ
বাংলা অর্থ:
“আমি তো কেবল তাই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়।”
(একাধিক আয়াতের নীতি)
➡️ কুরআনে কোথাও সৃষ্টির হাজার বছর আগের ঘটনা সম্পর্কে ওহী নাযিল হওয়ার কথা নেই।
যদি এসব তথ্য সত্যিই ওহীর অংশ হতো, তবে—
আরবি:
قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ
বাংলা অর্থ:
“বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনে যারা আছে—আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না।”
(সূরা আন-নামল ২৭:৬৫)
➡️ এই আয়াতের আলোকে রাসূলও গায়েব-জ্ঞানে অংশীদার নন।
এখানে স্পষ্ট দ্বন্দ্ব দেখা যায়—
এই হাদিসগুলোকে আক্ষরিক সত্য ধরলে—
যা গ্রহণযোগ্য নয়।
কুরআনের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত—
ফয়সালা:
যে হাদিসগুলো রাসূলকে সৃষ্টির বহু হাজার বছর আগের গায়েবি ঘটনাবলির জ্ঞানী হিসেবে উপস্থাপন করে, সেগুলো কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অতএব, এই বর্ণনাগুলো কুরআনিক মানদণ্ডে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
