• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

১১১ — সুরা আল-মাসাদ

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ৩৭৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

১১১ঃ১  تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত (অহংকারী, রাগী নেতার ক্ষমতা)— এবং সে নিজেও ধ্বংস হলো।
━━━━━━━━━━━✦━━━━━━━━━━━

১১১ঃ২  مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ
তার ধন-সম্পদ এবং যা সে উপার্জন করেছে— কিছুই তাকে উপকার দেবে না।
━━━━━━━━━━━✦━━━━━━━━━━━

১১১ঃ৩  سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ
সে অচিরেই প্রবেশ করবে জলন্ত আগুনে।
━━━━━━━━━━━✦━━━━━━━━━━━

১১১ঃ৪  وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ
তার স্ত্রীও— কাঠ বহনকারী (অপরাধে সহযোগী)।
━━━━━━━━━━━✦━━━━━━━━━━━

১১১ঃ৫ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ
তার গলায় থাকবে পাকানো খেজুর-ছালের রশি।
━━━━━━━━━━━✦━━━━━━━━━━━

(তাফসীর দেখুন)

সুরা আল-মাসাদের আলোচনা

১. “ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত — এবং সে নিজেও ধ্বংস হলো।”
এখানে “দুই হাত” মানে শুধু শারীরিক হাত নয়; বরং ক্ষমতা, প্রভাব, উপায়, শক্তি— অর্থাৎ সেই সব মাধ্যম যার দ্বারা সে অহংকার করত, অন্যদের দমন করত, এবং সত্যের বিরুদ্ধে লড়ত। সুরাটি ঘোষণা করল— সেই ক্ষমতা শেষ, সেই অহংকার ভেঙে গেছে। “সে ধ্বংস হলো”— এটা অতীত কালের ভাষায় ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত ঘোষণা। কুরআন যখন এমনভাবে ঘোষণা দেয়, তখন বোঝায়— আল্লাহর সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনীয়।

২. “তার ধন-সম্পদ এবং যা সে উপার্জন করেছে— কিছুই তাকে উপকার দেবে না।”
আবু লাহাবের সকল নিরাপত্তা সে ভেবেছিল টাকা দিয়ে নিশ্চিত। সমাজে তার অবস্থান ছিল ধন + বংশ + ক্ষমতার উপর। কুরআন দেখালো— সত্যের সামনে সব নিরাপত্তা মিথ্যা। ধন-সম্পদ কাউকে মুক্তি দিতে পারে না, আবার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সম্পদ নিছক অভিশাপও হয়। এখানে সূক্ষ্ম শিক্ষা: মানুষ যা অর্জন করে তা সবসময় তার হয়ে থাকে না; কখনও তা তার বিপরীতে সাক্ষী হয়।

৩. “সে অচিরেই প্রবেশ করবে জলন্ত আগুনে।”
এটি শুধু নরকের বর্ণনা নয়; বরং প্রতীকীও— যে আগুনে সে দুনিয়ায় সত্যের বিরুদ্ধে ঘৃণা জ্বালাত, সেই আগুনই সেই দিনের আগুন হয়ে তার সামনে ফিরে আসবে। কুরআন অনেক জায়গায় এই ন্যায়বোধ দেখায়— কর্ম ফিরে যায় কর্মীর কাছে। আগুন মানে শুধু শাস্তি নয়, অহংকারের পোড়া ফল।

৪. “তার স্ত্রীও— কাঠ বহনকারী।”
আবু লাহাবের স্ত্রী সমাজে আগুন জ্বালানো, গীবত, অপবাদ, ষড়যন্ত্র ছড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগী ছিল। সে বাড়িতে কাঠ জ্বালাত আগুন জ্বালানোর জন্য; সমাজে জ্বালাত অপমান ও বিদ্বেষের আগুন। কুরআন তার এই ভূমিকা ভাষায় ধরে— অপরাধী একা হয় না; অপরাধী ecosystem থাকে।

৫. “তার গলায় থাকবে পাকানো খেজুর-ছালের রশি।”
এখানে রশি দুটি অর্থ বহন করে:
— দুনিয়ায় যে দড়ি দিয়ে সে অন্যদের কষ্ট দিত, অন্যদের নিয়ে টানাটানি করত, ষড়যন্ত্রে যুক্ত করত, সেই দড়ি তার নিজের গলায়।
— আর খেজুর-ছালের রশি ছিল মরুভূমিতে নিম্নমানের ও কষ্টদায়ক। অর্থাৎ তার দম্ভময় শ্রেণিক উচ্চতা শেষে পরিণত হবে সর্বনিম্ন মর্যাদায়।


সুরার অভ্যন্তরীণ বার্তা

সুরাটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি কুরআন প্রথম যুগে যে অপরাধের বংশতন্ত্র ধ্বংস করতে এসেছিল সেটার উদাহরণ। এখানে তিনটি শিক্ষা স্পষ্ট—

(১) ক্ষমতা + সম্পদ + বংশ → সত্যের বিরুদ্ধে হলে মূল্যহীন
(২) অপরাধ রাজনৈতিক হলে → পরিবারের অংশীদারি হয়
(৩) অপরাধের আগুন → অপরাধীর চারপাশ থেকে শুরু হয় এবং শেষেও একই আগুনে শেষ হয়

বিশ্বজনীন শিক্ষা

এই সুরা ইতিহাসের আবু লাহাবকে লক্ষ্য করে, কিন্তু খুব বুদ্ধিমত্তায় সময়ের সকল আবু লাহাবকে ধরে:

যে নেতা অহংকারী, যে অর্থকে বর্ম বানায়, যে পরিবারকে অপকর্মে ব্যবহার করে— সবার পরিণতি একই সূত্রে চলে।

আল-মাসাদ তাই ধর্মীয় শাস্তির আয়াত নয়— এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের ঘোষণা।

(অনুবাদ ও তাফসীর “ফ্রেন্ডস অফ কুরআন ফাউন্ডেশন)

সুরা আল-মাসাদের আলোচনা


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page