Friends of Qur’an ২৫টি সাংগঠনিক নিয়ম
১. কুরআন হবে মূল ভিত্তি
সংগঠনের সকল নীতিমালা, চিন্তা, সিদ্ধান্ত, কর্মপরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনা সরাসরি কুরআনের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। কোনো মতামত বা কার্যক্রম কুরআনের মূলনীতির পরিপন্থী হতে পারবে না।
২. আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে উদ্দেশ্য
সংগঠনের প্রতিটি কাজ, উদ্যোগ ও ত্যাগ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে সম্পাদিত হবে; কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, খ্যাতি বা পার্থিব লাভ উদ্দেশ্য হতে পারবে না।
৩. সদস্যদের ঈমানি চরিত্র
প্রতিটি সদস্যকে তাকওয়া, সততা, আমানতদারিতা, নম্রতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন চরিত্র গড়ে তুলতে হবে, যা তার ব্যক্তিগত জীবন ও সংগঠনিক আচরণে প্রতিফলিত হবে।
৪. নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন
সদস্যদের প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত, অর্থ বোঝা এবং জীবনে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময় ব্যয় করতে হবে, যাতে কুরআন তাদের জীবনের পথপ্রদর্শক হয়।
৫. সাপ্তাহিক কুরআন আলোচনা
প্রতিটি ইউনিট বা শাখায় নিয়মিত সাপ্তাহিক কুরআন অধ্যয়ন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আয়াতভিত্তিক চিন্তা, শিক্ষা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
৬. শৃঙ্খলা বজায় রাখা
সংগঠনের সকল সদস্যকে নির্ধারিত নিয়ম, সময়সূচি ও কাঠামো মেনে চলতে হবে; শৃঙ্খলা ভঙ্গ সংগঠনের কার্যকারিতা নষ্ট করে—এটি কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে।
৭. নেতৃত্বের প্রতি দায়িত্বশীল আনুগত্য
সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে, তবে তা অবশ্যই কুরআনের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কোনো অন্যায় নির্দেশ মান্য করা যাবে না।
৮. পারস্পরিক সম্মান
সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সম্মান বজায় রাখতে হবে, যাতে একটি ইতিবাচক ও ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ গড়ে ওঠে।
৯. বিভক্তি পরিহার
অপ্রয়োজনীয় মতবিরোধ, গোষ্ঠীবাদ, হিংসা ও দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকতে হবে।
১০. শুরা বা পরামর্শ
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারস্পরিক পরামর্শ (শুরা) বাধ্যতামূলক হবে, যাতে সবার মতামতের মূল্যায়ন হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়।
১১. সময়নিষ্ঠা
সকল প্রোগ্রাম, সভা ও দায়িত্ব পালনে সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে; দেরি করা বা দায়িত্বে অবহেলা সংগঠনের ক্ষতি করে।
১২. দায়িত্ব পালন
প্রত্যেক সদস্যকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা পরিহার করতে হবে।
১৩. সত্যবাদিতা
সদস্যদের কথা ও কাজে সত্যবাদী হতে হবে; মিথ্যা, প্রতারণা ও ভণ্ডামি সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়।
১৪. অন্যায়ের বিরোধিতা
জুলুম, দুর্নীতি, অবিচার ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করতে হবে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।
১৫. আত্মশুদ্ধি
প্রতিটি সদস্যকে নিজের অন্তর, নিয়ত ও আচরণ সংশোধনের জন্য নিয়মিত আত্মসমালোচনা ও আত্মউন্নয়নের চর্চা করতে হবে।
১৬. এহসান
মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার, সহানুভূতি, ক্ষমাশীলতা এবং কল্যাণমূলক আচরণ প্রদর্শন করতে হবে, যা কুরআনের নৈতিকতার প্রতিফলন।
১৭. সমাজসেবা
সংগঠন সমাজের কল্যাণে শিক্ষা, সহায়তা, মানবিক উদ্যোগ ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে কুরআনের মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮. তরুণদের উৎসাহিত করা
তরুণ প্রজন্মকে কুরআনকেন্দ্রিক চিন্তা ও সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
১৯. মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার
ডিজিটাল মিডিয়া, সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুরআনের শিক্ষা প্রচার করতে হবে, তবে বিভ্রান্তি, অপপ্রচার বা অনৈতিক কনটেন্ট থেকে বিরত থাকতে হবে।
২০. অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা
সংগঠনের সকল আয়-ব্যয় সঠিকভাবে সংরক্ষণ, হিসাব ও জবাবদিহিতার আওতায় রাখতে হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।
২১. গোপনীয়তা রক্ষা
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও সংবেদনশীল তথ্য অনুমতি ছাড়া বাইরে প্রকাশ করা যাবে না।
২২. সদস্য নির্বাচন
নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে তার নৈতিকতা, কুরআনের প্রতি আগ্রহ, দায়িত্ববোধ ও আচরণ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২৩. প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা
সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কুরআন বোঝা, নেতৃত্ব গঠন, যোগাযোগ দক্ষতা ও সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
২৪. সংগঠনের মর্যাদা রক্ষা
প্রতিটি সদস্যের আচরণ এমন হতে হবে যাতে সংগঠনের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সমাজে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়।
২৫. কুরআনভিত্তিক সমাজ গঠন
সংগঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে কুরআনের আলোকে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ন্যায়, নৈতিকতা ও সত্য প্রতিষ্ঠা করা।
