• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন

তাফসীর | সূরা ৪ : আয়াত ৭৫

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ১৬১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তাফসীর | সূরা ৪ : আয়াত ৭৫

তাফসীরঃ Friends of Quran Foundation


আয়াত
وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تُؤْمِنَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَيُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ


অনুবাদ
কেউ নিজের ইচ্ছা দ্বারা বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে না, শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তা তার প্রশংসায় সঙ্গীতপূর্ণ। আর তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান।


আয়াতের বিস্তারিত আলোচনা

সূরা নিসা ৭৫ আয়াতটি ইসলামের প্রতিরক্ষা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানোর নীতির উপর আলোকপাত করে। এটি কেবল যুদ্ধ বা সামরিক প্রতিরোধের নিয়ম নির্ধারণ করে না, বরং মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মূলনীতিগুলোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

আয়াতের শুরুতে বলা হয়েছে: “কেউ নিজের ইচ্ছায় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে না, শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায়।” এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্পর্য বহন করে। এখানে আল্লাহ মানুষের হৃদয় ও ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন। মানে, মানুষ চেষ্টা করতে পারে, শিক্ষিত হতে পারে, পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস স্থাপন হবে আল্লাহর অনুমতিতে। এই বিষয়টি বিশ্বাস ও শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করে।

এরপর আয়াতের মূল বক্তব্যের দিকে আসে—নির্যাতিতদের পক্ষে লড়াই। কুরআন এখানে নির্দেশ দিচ্ছে, যখন সমাজে নির্যাতন বেড়ে যায়, তখন আল্লাহর অনুমতি অনুযায়ী অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা বৈধ এবং ন্যায়সঙ্গত। এটি প্রমাণ করে যে ইসলাম প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকার করে, বিশেষ করে যখন নিরপরাধ মানুষের ওপর জুলুম চালানো হয়।

আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে: “আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তা তার প্রশংসায় সঙ্গীতপূর্ণ।” এটি মানুষের প্রতি একটি স্মরণবাণী। মানুষ যতই শক্তিশালী বা প্রস্তুত থাকুক, তার সব কর্মের মূল পরিচালনা আল্লাহর হাতে। এই সঙ্গীতপূর্ণ প্রশংসা পৃথিবীর প্রতিটি নির্যাতিত ও ন্যায়হীন পরিস্থিতিকে আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং প্রতিটি সামাজিক সংঘাতকে সীমাবদ্ধ করে।

তৃতীয় অংশে, আল্লাহকে পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে প্রতিরোধ বা যুদ্ধের সময় শক্তি এবং প্রজ্ঞার ব্যবহার ন্যায়ের সঙ্গে মেলাতে হবে। শুধুমাত্র শক্তি থাকলেই যথেষ্ট নয়; সেই শক্তি যদি প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিচালিত না হয়, তবে তা অন্যায় এবং ধ্বংসের কারণ হতে পারে।


কুরআনের সম্পর্কিত আয়াতসমূহ

  • ২:১৯০ — আল্লাহর পথে যুদ্ধ এবং সীমালঙ্ঘনের নীতি
  • ২২:৩৯ — নির্যাতিতদের প্রতিরোধের অনুমতি
  • २२:৪০ — উপাসনালয় রক্ষার জন্য প্রতিহতকরণ
  • ২:২৫১ — দাউদ ও জালূতের ঘটনা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা
  • ৫:৮ — শত্রুর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারে অবিচল থাকা

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা

আজকের সমাজে যখন নির্যাতন, অসাম্য ও অন্যায় দেখা যায়, ৪:৭৫ আয়াত আমাদের নির্দেশ দেয় যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় থাকা এবং নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো আল্লাহর অনুমতি অনুযায়ী বৈধ। এই আয়াত মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, নিজের শক্তি, প্রজ্ঞা এবং মনোবল ব্যবহার করে অন্যায় প্রতিরোধ করা একটি নৈতিক কর্তব্য।

আয়াতের শিক্ষা স্পষ্ট—মানুষের ইচ্ছার সীমা আছে, তার সর্বশেষ নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর হাতে। যখন মানুষ চেষ্টা করে, যুদ্ধ বা প্রতিরোধে অংশ নেয়, তখন তার চেষ্টার সফলতা আল্লাহর অনুগ্রহে নির্ধারিত। তবে সেই চেষ্টা হবে ন্যায়ভিত্তিক, সীমাবদ্ধ এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিচালিত।

এই আয়াত আমাদের শেখায় যে ইসলামের নৈতিক দর্শন কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতার উপর নয়; বরং এটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নির্যাতিতদের জন্য দাঁড়ানো, শক্তি ও প্রজ্ঞার সঠিক ব্যবহার এবং আল্লাহর অনুমতি মেনে চলা হলো ইসলামের মৌলিক নীতি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page