• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

তাফসীর | সূরা ৪২ : আয়াত ২১

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ১৫৪ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬


আশ-শুরা ৪২:২১ — মানব-নির্মিত ধর্মীয় বিধান ও আল্লাহর অনুমোদিত পথ


ভূমিকা
কুরআনুল কারীম মানবজাতির জন্য আল্লাহর সর্বশেষ নির্দেশিকা। আশ-শুরা সূরার ২১ নম্বর আয়াতটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় বিধান তৈরি করার প্রবণতাকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে।

Friend of Quran Foundation-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, এই আয়াত মানুষের জন্য একটি মৌলিক শিক্ষা—ধর্মীয় কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহর, আর মানুষের বানানো বিধানকে ধর্ম বলা শিরক।


আয়াতের পাঠ ও অর্থ

আরবি মূল:
اَمْ لَهُمْ شُرَكٰٓؤُا شَرَعُوْا لَهُمْ مِّنَ الدِّيْنِ مَا لَمْ يَاْذَنْۢ بِهِ اللّٰهُ ؕ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ ؕ وَاِنَّ الظّٰلِمِيْنَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ

বাংলা অনুবাদ:
“এদের কি এমন অংশীদার আছে যারা এদের জন্য এমন ধর্মীয় বিধান তৈরি করেছে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? চূড়ান্ত ঘোষণা না থাকলে এদের বিষয়ে তো ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি।”


Friend of Quran Foundation-এর ব্যাখ্যা

১. ধর্মীয় কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহর

  • আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বানানো বিধানকে ধর্ম বলা যায় না।
  • মানুষের বানানো আইন, প্রথা বা কুসংস্কারকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা শিরক।

২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

  • মক্কার মুশরিকরা পশু উৎসর্গ, মূর্তিপূজা, এবং নানা কুসংস্কারকে ধর্মীয় বিধান হিসেবে চালু করেছিল।
  • তারা দাবি করত, এগুলো ধর্মীয় আইন। অথচ আল্লাহ এসবের অনুমতি দেননি।
  • আয়াতটি তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে।

৩. আল্লাহর অবকাশ ও চূড়ান্ত বিচার

  • আল্লাহ পৃথিবীতে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেননি, কারণ তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন।
  • “কَلِمَةُ الْفَصْلِ” অর্থাৎ আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত হলো—কিয়ামতের দিনেই চূড়ান্ত বিচার হবে।

৪. সীমালঙ্ঘনকারীদের পরিণতি

  • যারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ধর্ম বানায়, তারা সীমালঙ্ঘনকারী।
  • তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

মক্কার সমাজ

  • মক্কার মুশরিকরা নিজেদের দেবতাদের নামে অনেক বিধান চালু করেছিল।
  • তারা কিছু পশু হারাম করত, কিছু পশু মূর্তির নামে উৎসর্গ করত।
  • এসবকে তারা ধর্মীয় আইন হিসেবে প্রচার করত।

কুরআনের প্রতিক্রিয়া

  • কুরআন এসবকে শিরক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
  • আল্লাহর অনুমতি ছাড়া বানানো ধর্মীয় বিধানকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আধুনিক উদাহরণ

ক. কুসংস্কার ও প্রথা

  • আজও অনেক সমাজে কুসংস্কার ও প্রথাকে ধর্মের অংশ হিসেবে মানা হয়।
  • যেমন—মাজার পূজা, তাবিজ-কবচ, বা বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান।

খ. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

  • অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের বিধানকে আল্লাহর নির্দেশ বলে প্রচার করে।
  • অথচ কুরআন ছাড়া অন্য কোনো উৎসকে ধর্মীয় কর্তৃত্ব হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

গ. রাজনৈতিক ব্যবহার

  • ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে অনেক সময় নতুন বিধান তৈরি করা হয়।
  • Friend of Quran Foundation-এর মতে, এটি স্পষ্ট শিরক।

শিক্ষণীয় বিষয়

  • ধর্মীয় বিধান কেবল কুরআন থেকেই গ্রহণ করতে হবে।
  • মানুষের বানানো ধর্মীয় আইনকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
  • আল্লাহর অবকাশকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসা জরুরি।
  • সীমালঙ্ঘনকারীদের পরিণতি ভয়াবহ—তাদের জন্য রয়েছে আখিরাতের কঠিন শাস্তি।

উপসংহার
আশ-শুরা ৪২:২১ আয়াত আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বানানো ধর্মীয় বিধান গ্রহণ করা শিরক। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া বানানো ধর্ম পৃথিবীতে সাময়িকভাবে চলতে পারে, কিন্তু আখিরাতে এর কঠিন শাস্তি নিশ্চিত। Friend of Quran Foundation-এর ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে—ধর্মীয় কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহর, আর তাঁর নির্দেশই একমাত্র নিরাপদ পথ।



আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page