আরবি আয়াত:
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا
ভাবার্থভিত্তিক সঠিক তর্জমা:
নারীদের তাদের নির্ধারিত দান (মোহরানা/মহর) প্রদান করো যা স্বাভাবিকভাবে তাদের প্রাপ্য। যদি তারা তার ইচ্ছায় এর কিছু অংশ তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়, তবে সেটি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করো এবং সেটিকে খুশি এবং সন্তুষ্টির সঙ্গে গ্রহণ করো।
সূরা ৪:৪ আয়াতটি ইসলামে বিবাহের আর্থিক নীতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। প্রথমেই আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, “নারীদের নির্ধারিত দান দাও”, যা মূলত মেহেন্দি বা মহর বোঝায়। এটি নারীর পূর্ণ অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষা করার একটি সামাজিক ও নৈতিক নির্দেশ। আয়াতটি নারীর স্বাতন্ত্র্য এবং সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
আয়াতের প্রথম অংশটি “آتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً”। এখানে প্রতিটি শব্দের গভীর অর্থ রয়েছে:
এখানে কুরআন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয় যে, বিবাহের আর্থিক ব্যবস্থা যেন ন্যায়পরায়ণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। নারীর প্রতি আর্থিক অবহেলা বা অন্যায় সমাজে অশান্তি এবং অস্থিরতার কারণ হতে পারে, তাই আল্লাহ এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় অংশ “فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا” নির্দেশ করে যে, যদি নারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মহরের কিছু অংশ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেয়, তবে সেটি গ্রহণ করাও যায়। এখানে কুরআন স্বেচ্ছাসেবী, আনন্দের সঙ্গে গ্রহণের নীতি স্থাপন করেছে। এটি শিক্ষায় দেয় যে, দান গ্রহণ করার সময় অনৈতিক চাপ বা জোর প্রয়োগ করা যাবে না; বরং এটি আনন্দ এবং সম্মানের সঙ্গে হওয়া উচিত।
আয়াতের “فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا” অংশটি নির্দেশ দেয় যে, এই দান গ্রহণ আনন্দ এবং সন্তুষ্টির সঙ্গে করা উচিত। এখানে নৈতিক এবং সামাজিক দিক দুটি তুলে ধরা হয়েছে:
বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, আয়াতটি আমাদের শেখায় যে, বিবাহ কেবল সামাজিক বা আবেগিক সম্পর্ক নয়, বরং একটি নৈতিক ও আর্থিক দায়িত্বও। প্রতিটি দায়িত্ব যেমন মহরের প্রদান, তেমনই গ্রহণের সময় সম্মান ও খুশি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, কুরআন নারীকে কেবল পরিবার বা বিবাহের সীমিত দায়িত্বে বসিয়ে রাখে না, বরং তার অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সম্মান–এর প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করে। বিশেষ করে এটি সামাজিক ভারসাম্য, পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার অংশ।
“নারীর প্রতি অন্যায় করো না, বরং তাদের অধিকার রক্ষা করো এবং সঠিকভাবে আচরণ করো।”
“যারা সমাজে ন্যায় এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, তাদের জন্য আল্লাহ বিশেষ আশ্রয় ও পুরস্কার রেখেছেন।”
“বিবাহ ও আলাদা হওয়ার ক্ষেত্রে নারীর অধিকার এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করো।”
আজকের সমাজে নারীর আর্থিক অধিকার প্রায়ই অবহেলিত হয়। অনেক সময় স্বামী বা পরিবারের সদস্যরা মহরের অংশ ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রদান করে না, অথবা নারীর অনুমতি ব্যতীত দান গ্রহণ করে। সূরা ৪:৪ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নারীর নির্ধারিত প্রাপ্য দান প্রদান, সম্মান এবং খুশিময় গ্রহণ—এসব সামাজিক ন্যায় ও নৈতিকতার ভিত্তি।
সূরা ৪:৪ আমাদের শেখায় যে, নারীর জন্য নির্ধারিত দান প্রদান করা, স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়া অংশ গ্রহণ করা এবং তা আনন্দের সঙ্গে করা—এগুলো কেবল সামাজিক ন্যায় নয়, বরং নৈতিক এবং কুরআনের নির্দেশিত জীবনযাত্রার অংশ। এটি পারিবারিক সম্পর্ক, নৈতিক শিক্ষা এবং সমাজে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
কুরআনের বিবাহ বনাম প্রচলিত বিবাহ
