• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

তাফসীর | সূরা ৪ : আয়াত ৭

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ৩০৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তাফসীর | সূরা নিসা : আয়াত ৭

তাফসীর | Friends of Quran Foundation


আরবি আয়াত:
لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلْنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ ۚ نَصِيبًا مَّفْرُوضًا


ভাবার্থভিত্তিক সঠিক তর্জমা:
পুরুষদের জন্য নির্ধারিত আছে যে, যা অর্পিত হয়েছে তা থেকে তাদের একটি অংশ পাবেন—পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে। নারীদের জন্যও নির্ধারিত আছে যে, যা অর্পিত হয়েছে তা থেকে তাদের অংশ থাকবে—অল্প বা অনেক, যা কিছু হয়েছে, তা একটি বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।


আয়াতের তাফসীর ও বিশদ ব্যাখ্যা

সূরা ৪:৭ আয়াতটি উত্তরাধিকার ও বংশপরিচয়ভিত্তিক সম্পদ বিতরণের নৈতিক ও সামাজিক নীতি নির্ধারণ করে। কুরআন এখানে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে, পুরুষ এবং নারীর জন্য সম্পদের ভাগ নির্ধারিত আছে, এবং এটি আল্লাহ কর্তৃক বিধৃত। এখানে “نصيبًا مفروضًا” কথাটি নির্দেশ করে যে, এটি কোনো আলামতি বা ইচ্ছামত অংশ নয়, বরং আইনসঙ্গত ও বাধ্যতামূলক অংশ।

আয়াতটি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম অংশে বলা হয়েছে, পুরুষদের জন্য অংশ নির্ধারিত। পুরুষদের অধিকার হলো পিতামাতা এবং নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে তাদের অংশ নেওয়া। এটি সামাজিক ভারসাম্য, পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং পুরুষদের নৈতিক দায়িত্ব নিশ্চিত করে।

দ্বিতীয় অংশে, নারীদের জন্যও একটি নির্ধারিত অংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে কুরআন স্পষ্ট করে যে, নারীরও অভিভাবক বা পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া সম্পদের ওপর সমান অধিকার রয়েছে। এটি নারীর মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কুরআন বলেন, “مِمَّا قَلَّ مِنْهُ أَوْ كَثُرَ”, অর্থাৎ যে সম্পদ কম বা বেশি, তার ওপরই নারী ও পুরুষের অংশ প্রযোজ্য। এটি নির্দেশ দেয় যে, সম্পদের পরিমাণ নির্বিশেষে ন্যায় এবং সমতা নিশ্চিত করতে হবে।

আয়াতটি সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে ন্যায়পরায়ণ সম্পদ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য এবং পরিবার ও বংশপরিচয়ে সাম্য স্থাপন করার জন্য। এটি শেখায় যে, উত্তরাধিকার কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশিত নৈতিক এবং সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

এখানে শিক্ষা হলো যে, কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামত সম্পদ বিতরণ করতে পারবে না। পুরুষ বা নারী, কেউই নিজেদের অংশের অধিক বা কম গ্রহণ করতে পারবে না। এটি সমাজে আর্থিক ন্যায়, পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং নৈতিক আচরণের মূল ভিত্তি।


এই আয়াতের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য আয়াতসমূহ

  • সূরা আন-নিসা (৪:১১)

উত্তরাধিকার নির্ধারণের বিস্তারিত বিধান এবং সন্তানের প্রতি ন্যায় প্রতিষ্ঠা।

  • সূরা আন-নিসা (৪:১২)

স্বামী বা স্ত্রীর সম্পদ এবং তাদের নির্ধারিত অংশের নির্দেশ।

  • সূরা আন-নিসা (৪:১৯)

নারীর আর্থিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ।


সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা

আজকের সমাজে নারীর আর্থিক অধিকার প্রায়শই উপেক্ষিত হয়। অনেক সময় উত্তরাধিকার এবং সম্পদ বিতরণে নারীর অংশ হরণ করা হয়। সূরা ৪:৭ আয়াত মনে করিয়ে দেয় যে, নারী ও পুরুষ উভয়েরই নির্ধারিত অংশ রয়েছে, এবং এটি বাধ্যতামূলক। সমাজে ন্যায়, সমতা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সংক্ষেপে

সূরা ৪:৭ আমাদের শেখায় যে, উত্তরাধিকার এবং সম্পদের ন্যায্য বিতরণে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার রয়েছে। এটি কেবল আর্থিক ন্যায় নয়, বরং পারিবারিক, সামাজিক এবং নৈতিক দায়িত্ব পালনের মৌলিক নির্দেশ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page