وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ
দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের নিকটবর্তী সময়গুলোতে আল্লাহর সাথে যোগাযোগে প্রতিষ্ঠিত থাকো। নিশ্চয়ই সৎকর্মসমূহ অসৎকর্ম দূর করে দেয়। এটি স্মরণকারীদের জন্য এক উপদেশ।
(অনুবাদ – Friends of Quran Foundation)
সূরা হূদ এমন এক সূরা যা মানুষের ইতিহাসকে সামনে এনে এক গভীর বাস্তব সত্য ঘোষণা করে—সত্যের পথে থাকা মানে প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়া। এখানে একের পর এক নবীর ঘটনা এসেছে, এবং প্রত্যেক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু একই: মানুষ সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে, কিন্তু আল্লাহর রাসূলগণ অবিচল থেকেছেন। নূহ (আ.) দীর্ঘ সময় দাওয়াত দিয়ে গেছেন; হূদ (আ.) নিজের জাতির ঔদ্ধত্যের সামনে দাঁড়িয়েছেন; সালেহ (আ.) অলৌকিক নিদর্শনের পরও অস্বীকৃত হয়েছেন; লূত (আ.) সামাজিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে একা সংগ্রাম করেছেন; শু‘আইব (আ.) অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।
এই ধারাবাহিক বিবরণ পাঠকের সামনে একটি প্রশ্ন রেখে যায়—কীভাবে একজন মানুষ এই দীর্ঘ সংগ্রামে নিজেকে টিকিয়ে রাখবে? কোথা থেকে আসবে তার আধ্যাত্মিক শক্তি?
এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে ১১:১১৪ আয়াতটি এসেছে। এটি শুধু একটি ইবাদতের নির্দেশ নয়; এটি সংগ্রামী ঈমানের হৃদস্পন্দন।
আয়াতের প্রথম শব্দ— “وَأَقِمِ”।
এখানে “إقامة” ধাতু ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ দাঁড় করানো, প্রতিষ্ঠা করা, স্থাপন করা, স্থায়িত্ব দেওয়া। কুরআন যদি শুধু কাজের নির্দেশ দিতে চাইত, তাহলে অন্য শব্দ ব্যবহার করতে পারত। কিন্তু এখানে স্থাপন বা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ এখানে যে “সালাত”-এর কথা বলা হচ্ছে তা ক্ষণস্থায়ী আবেগ নয়; এটি জীবন কাঠামোর অংশ। এটি সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্তম্ভ।
এই আয়াতে “الصلاة” এসেছে, কিন্তু রাকাত, রুকু, সিজদা, কাঠামো উল্লেখ হয়নি। কেন? কারণ এখানে কাঠামো নয়; উদ্দেশ্য আলোচ্য।
কুরআন নিজেই সালাতের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছে।
সূরা ত্বা-হা (২০:১৪):
“أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي”
আমার স্মরণের জন্য সালাত প্রতিষ্ঠা করো।
সূরা আনকাবূত (২৯:৪৫):
“إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ”
সালাত অশ্লীলতা ও অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখে।
সূরা বাকারা (২:৪৫):
“وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ”
ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও।
এই তিনটি আয়াত সালাতের তিনটি দিক তুলে ধরে:
১. স্মরণ
২. নৈতিক নিয়ন্ত্রণ
৩. আধ্যাত্মিক শক্তি
অতএব সূরা হূদ ১১:১১৪-এ সালাতের সময়চক্র নির্ধারণ করা মানে স্মরণকে সময়ের ভেতর স্থাপন করা, নৈতিক নিয়ন্ত্রণকে সময়ের ভেতর সক্রিয় করা, আধ্যাত্মিক শক্তিকে সময়ের ভেতর পুনরুজ্জীবিত করা।
“طَرَفَيِ النَّهَارِ” — দিনের দুই প্রান্ত।
দিন মানে মানুষের কার্যকর জীবন। কাজ, দৌড়ঝাঁপ, সংগ্রাম, সিদ্ধান্ত—সবকিছু দিনের ভেতর। কুরআন এখানে দিনের শুরু ও শেষকে আল্লাহর স্মরণের জন্য নির্ধারণ করছে।
এই ধারণা কুরআনের অন্যত্রও এসেছে:
সূরা ত্বা-হা (২০:১৩০):
“وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا”
সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা করো।
সূরা ক্বাফ (৫০:৩৯-৪০):
“فَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ”
তারা যা বলে তাতে ধৈর্য ধরো এবং তোমার প্রতিপালকের প্রশংসা করো।
এই আয়াতগুলো দেখায়—দিনের শুরু ও শেষ আধ্যাত্মিক পুনর্গঠনের সময়।
মানুষ যখন দিনের শুরু আল্লাহর স্মরণ দিয়ে করে, তখন সে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে। তার কাজ তখন কেবল দুনিয়াবি লাভ নয়; ইবাদত হয়ে ওঠে। আর যখন দিনের শেষ আল্লাহর স্মরণ দিয়ে হয়, তখন সে আত্মসমালোচনা করে—আজ কী করলাম? কোথায় ভুল হলো?
এই চক্র মানুষকে নৈতিকভাবে সচেতন রাখে।
আয়াতাংশের অর্থঃ “وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ” — রাতের নিকটবর্তী সময়গুলো।
শব্দের অর্থঃ- “زلفة” শব্দের অর্থ নৈকট্য। রাত এমন সময় যখন মানুষ একা। কুরআন রাতকে গভীর উপলব্ধির সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সূরা মুযযাম্মিল (৭৩:৬):
“إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا”
রাতের সময় উচ্চারণ অধিক স্থির ও প্রভাবশালী।
রাতের নির্জনতা মানুষকে নিজের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেয়। দিন মানুষকে বাহিরমুখী করে; রাত মানুষকে অন্তর্মুখী করে।
এই আয়াত সেই অন্তর্মুখী সময়কে আল্লাহর সাথে সংযোগে ব্যবহার করতে বলছে।
কুরআন সময়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।
সূরা আসর (১০৩:১-৩):
“وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ”
সময় শপথ করে বলা হয়েছে—মানুষ ক্ষতির মধ্যে, যদি না সে ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।
সূরা ফজর, সূরা লাইল, সূরা দুহা—সবখানে সময়কে শপথ করে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরা হূদ ১১:১১৪ সময়কে আধ্যাত্মিকভাবে পুনর্গঠন করছে। সময়কে আল্লাহকেন্দ্রিক না করলে মানুষ ক্ষতির মধ্যে পড়ে।
এই আয়াত মানুষকে শেখায়—সময়কে ভাগ করো না; সময়কে আল্লাহর দিকে ফেরাও।
এখন আয়াতের দ্বিতীয় অংশের দিকে আসা যাক—
“إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ”
এটি কুরআনের অন্যতম আশাবাদী ঘোষণা।
মানুষ ভুল করবে—এটি কুরআন স্বীকার করে।
কিন্তু ভুল চিরস্থায়ী নয়—সৎকর্ম তা দূর করতে পারে।
সূরা নিসা (৪:৩১):
“نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ”
আমরা তোমাদের গুনাহ মুছে দেব।
সূরা যুমার (৩৯:৫৩):
“لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ”
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।
সূরা ফুরকান (২৫:৭০):
“يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ”
আল্লাহ তাদের মন্দকে সৎকর্মে পরিবর্তন করে দেন।
অতএব ১১:১১৪ আয়াত ঘোষণা করছে—
সময়ভিত্তিক আল্লাহর স্মরণ মানুষকে সৎকর্মের ধারায় রাখে, আর সৎকর্ম তার পাপকে দূর করে।
এই সূরায় বারবার বলা হয়েছে—
অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করো না।
সত্যের ওপর স্থির থাকো।
জালিমদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না (১১:১১৩)।
তারপরই ১১:১১৪ এসেছে।
অর্থাৎ অন্যায়ের সামনে দাঁড়াতে হলে আধ্যাত্মিক শক্তি প্রয়োজন। সালাত সেই শক্তি। সৎকর্ম সেই সংশোধন প্রক্রিয়া।
এটি এক সংগ্রামী সমাজের জন্য আধ্যাত্মিক রূপরেখা।
এখন আমরা আয়াতের কেন্দ্রীয় ঘোষণা অংশে প্রবেশ করবো:
“إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ”
নিশ্চয়ই সৎকর্মসমূহ অসৎকর্ম দূর করে দেয়।
এই একটি বাক্যের ভেতরে কুরআনের নৈতিক বিপ্লব লুকিয়ে আছে। এটি কেবল একটি নৈতিক উপদেশ নয়; এটি মানুষের পুনর্জন্মের ঘোষণা।
শব্দ “حسنة” শব্দের মূল ধাতু “حسن”—যার অর্থ সুন্দর, কল্যাণকর, উৎকৃষ্ট। কুরআনে “হাসানাহ” কেবল একটি সওয়াবের কাজ বোঝায় না; বরং এমন কাজ বোঝায় যা আল্লাহর কাছে সুন্দর, মানুষের কাছে কল্যাণকর এবং আত্মার জন্য পবিত্রকর।
সূরা নাহল (১৬:৯৭)-এ বলা হয়েছে:
“مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً”
যে সৎকর্ম করে, পুরুষ বা নারী, এবং সে মুমিন—আমরা তাকে পবিত্র জীবন দান করবো।
এখানে সৎকর্ম জীবনকে বদলে দেয়।
শব্দ- “سيئة” শব্দের মূল “سوء”—অর্থ খারাপ, অকল্যাণ, অন্ধকার। এটি কেবল পাপ নয়; বরং এমন কাজ যা আত্মাকে কলুষিত করে, সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
শব্দ “يذهبن” শব্দটি বর্তমান কালের বহুবচন ক্রিয়া—অর্থাৎ সৎকর্মগুলো ক্রমাগতভাবে মন্দকে সরিয়ে দেয়। এটি একবারের ঘটনা নয়; এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
অর্থাৎ যদি একজন মানুষ নিয়মিত সৎকর্মে যুক্ত থাকে, তাহলে তার জীবনে পাপ জমাট বাঁধতে পারে না।
এখানে কুরআনের একটি নৈতিক সূত্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে:
অন্ধকারকে সরাতে আলো প্রয়োজন।
পাপকে সরাতে সৎকর্ম প্রয়োজন।
সূরা ফুরকান (২৫:৭০):
“إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ”
যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে—আল্লাহ তাদের মন্দকে সৎকর্মে পরিবর্তন করে দেন।
এখানে তিনটি ধাপ:
১. তওবা (ভুল স্বীকার ও ফিরে আসা)
২. ঈমান (আল্লাহর প্রতি আস্থা পুনর্গঠন)
৩. সৎকর্ম (বাস্তব পরিবর্তন)
সূরা হূদ ১১:১১৪ এই তৃতীয় ধাপকে সামনে এনেছে—সৎকর্ম পাপ দূর করে।
সূরা নিসা (৪:৩১):
“إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ”
যদি তোমরা বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, আমরা তোমাদের ছোটখাটো গুনাহ মুছে দেব।
এখানে “تكفير” শব্দ এসেছে—ঢেকে দেওয়া, মুছে দেওয়া।
সূরা যুমার (৩৯:৫৩):
“قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ”
হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।
এই আয়াত ১১:১১৪-এর ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে—পাপ চূড়ান্ত নয়; প্রত্যাবর্তনের পথ আছে।
১১:১১৩ আয়াতে বলা হয়েছে:
“وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا”
জালিমদের দিকে ঝুঁকে পড়ো না।
এরপর ১১:১১৪—সালাত প্রতিষ্ঠা করো এবং সৎকর্ম করো।
অর্থাৎ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে নৈতিক দৃঢ়তা প্রয়োজন। পাপমুক্ত হৃদয় ছাড়া জালিমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায় না।
এখানে সৎকর্ম কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি সামাজিক অবস্থান।
মানুষ যখন পাপ করে, তখন তার অন্তরে অস্বস্তি জন্মায়। কুরআন এটিকে “ران” (৮৩:১৪) দ্বারা প্রকাশ করেছে:
“كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِم”
বরং তাদের অন্তরে মরিচা পড়ে গেছে।
এই মরিচা দূর করার উপায় হলো সৎকর্ম।
যেমন আয়না ময়লা হলে পরিষ্কার করতে হয়, তেমনি অন্তর পাপ দ্বারা কলুষিত হলে সৎকর্ম দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়।
সৎকর্ম শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়। কুরআনে সৎকর্মের বিস্তৃত তালিকা এসেছে:
সূরা বাকারা (২:১৭৭):
“لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ…”
সত্যিকার সৎকর্ম হলো—
ঈমান আনা,
আত্মীয়স্বজনকে দান করা,
অসহায়দের সাহায্য করা,
ওয়াদা পূরণ করা,
ধৈর্যধারণ করা।
অর্থাৎ সৎকর্ম একটি জীবনপদ্ধতি।
১১:১১৪ আয়াত তাই কেবল আচার নয়; নৈতিক বিপ্লবের ঘোষণা।
দিনের শুরু ও শেষ আল্লাহর স্মরণে রাখলে মানুষ তার ভুল দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। রাতের নির্জনতা তাকে সংশোধনের সুযোগ দেয়।
এই ধারাবাহিকতা পাপ জমতে দেয় না।
শেষ অংশ:
“ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ”
এই শিক্ষা সবার জন্য নয়—যারা স্মরণ করতে চায় তাদের জন্য।
কুরআন বারবার বলেছে:
“فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنتَ مُذَكِّرٌ” (৮৮:২১)
তুমি উপদেশ দাও—তুমি কেবল উপদেশদাতা।
স্মরণ গ্রহণ করা হৃদয়ের কাজ।
আজ মানুষ অপরাধবোধে ভোগে, কিন্তু সংশোধনের পথ জানে না। কেউ পাপের কারণে হতাশ হয়ে যায়, কেউ আবার পাপকে স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলে।
এই আয়াত উভয় চরমপন্থাকে ভেঙে দেয়।
না হতাশা।
না উদাসীনতা।
বরং সংশোধন।
১. ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে একটি সৎকর্ম করো।
২. প্রতিদিন আত্মসমালোচনার সময় নির্ধারণ করো।
৩. সময়ভিত্তিক আল্লাহর স্মরণকে স্থায়ী করো।
৪. জালিমের দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে নিজেকে রক্ষা করো।
৫. সৎকর্মকে জীবনের ধারাবাহিক কর্মসূচি বানাও।
এই আয়াত মানব আত্মার পুনর্জাগরণের ঘোষণা।
পাপ চিরস্থায়ী নয়—সৎকর্ম তার প্রতিষেধক।
সময়ের শৃঙ্খলা ও নৈতিক সংশোধনের মাধ্যমে মানুষ পুনরায় আলোর পথে ফিরে আসতে পারে।
