লেখক: মাহাতাব আকন্দ
প্রকাশনা: Friends of Quran Foundation
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ ۖ فَإِنِ انتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো—যতক্ষণ না ফিতনা দূর হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু যদি তারা বিরত হয়, তবে জালিমদের ছাড়া আর কারও বিরুদ্ধে শত্রুতা নেই।
এই আয়াতটি কুরআনের জিহাদ-সংক্রান্ত আয়াতগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত। কিন্তু এটি সঠিক প্রেক্ষাপট ছাড়া বোঝা হলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াতসমূহ (২:১৯০–১৯২) এবং সামগ্রিক কুরআনিক নীতির আলোকে বোঝা আবশ্যক।
সূরা আল-বাকারার ১৯০ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
“যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না।”
অর্থাৎ যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায়, সীমালঙ্ঘন নয়।
মক্কার মুসলিমরা দীর্ঘদিন নির্যাতিত হয়েছিল। তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল (২:১৯১)। সেই প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশ।
“ফিতনা” শব্দটি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটি সাধারণ অর্থে মতভেদ নয়; বরং নিপীড়ন, ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ, ঈমানের কারণে অত্যাচার।
সূরা আনফাল (৮:৩৯)-এ একই বাক্য এসেছে।
অর্থাৎ লড়াইয়ের উদ্দেশ্য ছিল—
এটি কোনো জোরপূর্বক ধর্মপ্রচার নয়।
এর মানে—
ধর্মচর্চা হবে আল্লাহর জন্য স্বাধীনভাবে।
কুরআন স্পষ্টভাবে বলেছে—
“দ্বীনে কোনো জবরদস্তি নেই।” (২:২৫৬)
অতএব “দ্বীন আল্লাহর জন্য” মানে—
শিরক বা জোরপূর্বক ব্যবস্থা নয়;
বরং নিপীড়নমুক্ত পরিবেশ।
এখানে শান্তির দরজা খোলা রাখা হয়েছে।
যদি তারা অত্যাচার বন্ধ করে, যুদ্ধ বন্ধ করে—
তাহলে আর শত্রুতা নয়।
এটি প্রতিশোধের নীতি নয়;
এটি ন্যায়ভিত্তিক প্রতিরক্ষা।
অর্থাৎ আক্রমণ নয়;
অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে সীমিত প্রতিরোধ।
ইসলাম যুদ্ধকে লক্ষ্য নয়; বরং অন্যায় প্রতিরোধের উপায় হিসেবে দেখে।
এই আয়াতকে বিচ্ছিন্নভাবে নিলে কেউ ভাবতে পারে—
ইসলাম চিরস্থায়ী যুদ্ধের আহ্বান করে।
কিন্তু কুরআনের পূর্ণ বার্তা হলো—
অতএব এটি নির্যাতনবিরোধী প্রতিরক্ষা নীতি।
আজ “ফিতনা” হতে পারে—
এই আয়াত ন্যায়ভিত্তিক প্রতিরোধের নীতি দেয়।
এই আয়াতের মূল শিক্ষা—
১. যুদ্ধ লক্ষ্য নয়; নিপীড়ন দূর করা লক্ষ্য।
২. সীমালঙ্ঘন হারাম।
৩. শান্তি এলে যুদ্ধ বন্ধ।
৪. ন্যায়বিচারই মূলনীতি।
✔ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো
✔ সীমালঙ্ঘন না করা
✔ শান্তির সুযোগ গ্রহণ
✔ ন্যায়কে অগ্রাধিকার দেওয়া
✔ ফিতনার প্রকৃত অর্থ বোঝা
আল্লাহ আমাদেরকে ন্যায়ভিত্তিক অবস্থান গ্রহণের তাওফীক দিন, যেন আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকি, কিন্তু সীমালঙ্ঘন না করি। নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।
