প্রশ্ন ৩: মোক্তার সরকার, জয়দেবপুর
আমি কুরআন পড়তে চাই কিন্তু কতটুকু পড়বো জানিনা । কুরআন থেকেই জানতে চাই?
উত্তর:
কুরআন নিজেই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে। কুরআন কোনো যান্ত্রিক চাপের ধর্ম নয়, বরং এটি মানুষের সক্ষমতা, অবস্থা ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে পথনির্দেশ দেয়। প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াতের পরিমাণ নির্ধারণে কুরআনের মূলনীতি হলো— সহজতা, সক্ষমতা ও ধারাবাহিকতা।
আল্লাহ বলেন—
فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ
“অতএব কুরআন থেকে যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ হয়, ততটুকু পড়ো।” (সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:২০)
এই আয়াতটি অত্যন্ত মৌলিক। এখানে আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা, পারা বা আয়াতের সংখ্যা বেঁধে দেননি। বরং একটি নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন— ‘মা তায়াসসারা, অর্থাৎ যা সহজ হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ স্পষ্ট করে দিলেন — কুরআন তিলাওয়াত ফরজ দায়িত্ব হলেও, তার পরিমাণ মানুষের সামর্থ্যের উপর নির্ভরশীল।
এই আয়াতের পেছনের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। সূরা মুযযাম্মিলের শুরুতে দীর্ঘ কিয়াম ও বেশি তিলাওয়াতের নির্দেশ ছিল। কিন্তু ২০ নম্বর আয়াতে এসে আল্লাহ তা হালকা করে দিলেন—কারণ মানুষের মধ্যে অসুস্থতা, সফর, জীবিকার সংগ্রাম ও দায়িত্ব রয়েছে। অর্থাৎ ইসলাম কঠোর রুটিন চাপিয়ে দেয় না; বরং ধারাবাহিক সংযোগ চায়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। অনেকেই মনে করেন—প্রতিদিন এক পারা না পড়লে বুঝি কুরআন পড়াই হলো না। আবার কেউ মনে করেন—সময় কম হলে একেবারেই না পড়াই ভালো। এই দুটো ধারণাই কুরআনিক ভারসাম্যের বিরুদ্ধে। কুরআনের দৃষ্টিতে অল্প হলেও নিয়মিত তিলাওয়াত উত্তম — অনিয়মিত তিলাওয়াত বেশি হলেও তা উত্তম নয় ।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়—এই আয়াতে শুধু ‘পড়ো’ বলা হয়নি; বরং সহজভাবে পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এমন পরিমাণ পড়ো, যাতে বোঝা যায়, হৃদয়ে প্রভাব ফেলে। কুরআন কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা নয়; এটি একটি জীবন্ত সংলাপ।
তাই কেউ যদি দৈনিক কয়েক আয়াত পড়ে বুঝে নেয়—সেটাও কুরআনের নির্দেশের ভেতরেই পড়ে। আবার যার সময় ও সামর্থ্য বেশি, সে বেশি পড়বে—এটাও গ্রহণযোগ্য। কুরআন নিজেই বলছে—মানুষের উপর তার সক্ষমতার বাইরে কোনো চাপ নেই (২:২৮৬)।
সারসংক্ষেপ
কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী—
