• সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

তাফসীর | সূরা ১৪ : আয়াত ২৪

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ৬৪ Time View
Update : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

তাফসীর | সূরা ১৪ ইব্রাহিম : আয়াত ২৪

লেখক: মাহাতাব আকন্দ
প্রকাশনা: Friends of Qur’an Foundation


আরবি আয়াত

أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ


বাংলা ভাবার্থ

“তুমি কি দেখনি, আল্লাহ কেমন একটি দৃষ্টান্ত দিয়েছেন—একটি পবিত্র বাক্য, যা একটি পবিত্র বৃক্ষের মতো; যার শিকড় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং যার শাখা আকাশে উঁচুতে প্রসারিত।”


আয়াতের তাফসীর ও বিশদ ব্যাখ্যা

এই আয়াতটি শুধু একটি দৃষ্টান্ত নয়; এটি মানুষের অন্তর, চিন্তা ও জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বদর্শন তুলে ধরে। এখানে “كَلِمَةً طَيِّبَةً” বা পবিত্র বাক্য বলতে কোনো একটি নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যাংশকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি; বরং এটি এমন এক সত্যকে বোঝায়, যা মানুষের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তার সমগ্র জীবনকে রূপান্তরিত করে।

এই “পবিত্র বাক্য” মূলত সেই বিশ্বাস, যা আল্লাহর একত্ব, তাঁর নির্দেশনা, ন্যায়বিচার, এবং আখিরাতের জবাবদিহিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। এটি কেবল মুখের উচ্চারণ নয়; এটি একটি জীবন্ত চেতনা, যা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত এবং আচরণকে পরিচালিত করে। যখন এই সত্য অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা একটি বৃক্ষের মতো হয়ে ওঠে।

এখানে “أَصْلُهَا ثَابِتٌ”—এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, এই পবিত্র বিশ্বাসের শিকড় মানুষের অন্তরে গভীরভাবে প্রোথিত হয়। এটি কোনো পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়; বরং তা স্থির, দৃঢ় এবং অটল। দুনিয়ার পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জ বা চাপ এই ভিত্তিকে নড়াতে পারে না।

এখানে “وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ”—এই অংশটি সেই বিশ্বাসের বহির্মুখী প্রকাশকে নির্দেশ করে। যখন অন্তরের ঈমান দৃঢ় হয়, তখন তার প্রভাব মানুষের কাজ, চরিত্র, সম্পর্ক এবং সমাজে প্রতিফলিত হয়। তার চিন্তা উন্নত হয়, তার আচরণ কল্যাণমুখী হয়, এবং তার প্রভাব অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে।

এই আয়াতের আধ্যাত্মিক দিকটি অত্যন্ত গভীর। “পবিত্র বাক্য” আসলে মানুষের অন্তরের সেই জাগরণ, যেখানে সে সত্যকে শুধু জানে না, বরং তা অনুভব করে এবং জীবনে বাস্তবায়ন করে। এটি এমন একটি অবস্থান, যেখানে মানুষের অন্তর, ভাষা এবং কর্ম একসাথে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

অর্থাৎ, পবিত্র বাক্য মানে এমন এক বিশ্বাস ও চেতনা, যা মানুষের ভেতরকে শুদ্ধ করে এবং তার বাইরের জগতকে আলোকিত করে। এটি এমন এক শক্তি, যা মানুষকে স্থিরতা দেয়, দিকনির্দেশ দেয় এবং তাকে আল্লাহর সাথে সংযুক্ত রাখে।

এই দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে একটি আয়না দেখান—আমাদের অন্তরে কি সেই পবিত্র বাক্য প্রতিষ্ঠিত আছে? আমাদের জীবনের শিকড় কি সত্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে? এবং আমাদের কাজ কি সেই সত্যের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে?


গভীর তাৎপর্য

১. “পবিত্র বাক্য” কোনো সীমিত শব্দ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস ও জীবনব্যবস্থা।
২. অন্তরের দৃঢ় ঈমানই মানুষের জীবনের ভিত্তি নির্ধারণ করে।
৩. সত্যিকারের বিশ্বাস মানুষের কাজ ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৪. আধ্যাত্মিকতা মানে অন্তরের সত্যকে জীবনে বাস্তবায়ন করা।


সম্পর্কিত আয়াতসমূহ

  • ১৪:২৫ — সেই বৃক্ষের ধারাবাহিক ফলদান
  • ১৪:২৬ — মন্দ বাক্যের বিপরীত উদাহরণ
  • ১৩:১৭ — সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত
  • ২:২৫৬ — সত্য ও ভ্রান্তির পার্থক্য

সংক্ষেপে (করণীয়)

  • নিজের অন্তরে সত্যিকারের ঈমান প্রতিষ্ঠা করা।
  • বিশ্বাসকে শুধু কথায় নয়, কাজে রূপান্তর করা।
  • জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য ও ন্যায়ের প্রতিফলন ঘটানো।
  • আধ্যাত্মিকভাবে নিজেকে শুদ্ধ ও সচেতন রাখা।

Print this entry


আপনার মতামত লিখুন :
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x