• সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

তাফসীর | সূরা ১৪ : আয়াত ২৫

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ৬২ Time View
Update : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

তাফসীর | সূরা ১৪ ইব্রাহিম : আয়াত ২৫

লেখক: মাহাতাব আকন্দ
প্রকাশনা: Friends of Qur’an Foundation


আরবি আয়াত

تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا ۗ وَيَضْرِبُ اللّٰهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ


বাংলা ভাবার্থ

“তার ফল সে তার রবের অনুমতিতে সব সময় প্রদান করে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।”


আয়াতের তাফসীর ও বিশদ ব্যাখ্যা

এই আয়াতটি পূর্ববর্তী দৃষ্টান্তের স্বাভাবিক পরিণতি তুলে ধরে। সেখানে যে “পবিত্র বাক্য”কে একটি দৃঢ় ও উচ্চমুখী বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়েছিল, এখানে সেই বৃক্ষের জীবন্ত কার্যকারিতা—তার ফলদান—ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এখানে “تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ” অংশটি নির্দেশ করে, এই বৃক্ষের ফলদান কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা ধারাবাহিক, অবিরাম এবং স্থায়ী। এই দৃষ্টান্তের আধ্যাত্মিক অর্থ হলো—যে অন্তরে সত্যিকারের পবিত্র বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়, তার জীবন থেকেও নিরন্তর কল্যাণ বের হতে থাকে। তার চিন্তা, তার কথা, তার কাজ—সব কিছুতেই এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ও উপকারিতা প্রকাশ পায়।

এখানে “ফল” বলতে শুধু বাহ্যিক সৎকর্ম বোঝানো হয়নি; বরং অন্তরের পরিশুদ্ধতা, চরিত্রের উন্নতি, নৈতিক স্থিরতা, এবং অন্যদের প্রতি কল্যাণমুখী আচরণ—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষের জীবন নিজেই একটি ফলদায়ী বৃক্ষে পরিণত হয়, যার প্রভাব তার নিজের সীমা ছাড়িয়ে সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বলা হয়েছে—“بِإِذْنِ رَبِّهَا”। এই অংশটি আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, এই ধারাবাহিক কল্যাণ মানুষের নিজস্ব ক্ষমতার ফল নয়; বরং তা সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর অনুমতি, তত্ত্বাবধান এবং অনুগ্রহের অধীন। মানুষ চেষ্টা করে, কিন্তু ফলপ্রসূতা আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এই উপলব্ধি মানুষের মধ্যে বিনয়, নির্ভরতা এবং আল্লাহমুখীতা সৃষ্টি করে।

শেষাংশে—“وَيَضْرِبُ اللّٰهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ”—এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই দৃষ্টান্তগুলো কেবল গল্প বা উপমা নয়; এগুলো মানুষের চেতনা জাগ্রত করার জন্য। আল্লাহ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে এমন উদাহরণ দেন, যাতে সে নিজের অবস্থাকে যাচাই করে এবং সঠিক পথে ফিরে আসে।

এই আয়াত আমাদের সামনে একটি আধ্যাত্মিক বাস্তবতা তুলে ধরে—যদি আমাদের অন্তরে সত্যিকারের পবিত্র বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের জীবন থেকেও অবিরাম কল্যাণ বের হবে। আর যদি সেই ফল না দেখা যায়, তবে আমাদের শিকড়—অর্থাৎ বিশ্বাস—পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।


গভীর তাৎপর্য

১. সত্যিকারের ঈমান জীবনে ধারাবাহিক কল্যাণ সৃষ্টি করে।
২. সৎকর্মের প্রকৃত ফল আল্লাহর অনুমতির উপর নির্ভরশীল।
৩. আধ্যাত্মিক বিকাশ বাহ্যিক আচরণেও প্রতিফলিত হয়।
৪. কুরআনের দৃষ্টান্ত মানুষকে আত্মসমালোচনার দিকে আহ্বান করে।


সম্পর্কিত আয়াতসমূহ

  • ১৪:২৪ — পবিত্র বাক্যের দৃষ্টান্ত
  • ১৪:২৬ — মন্দ বাক্যের বিপরীত উদাহরণ
  • ২:২৬১ — সৎকর্মের বহুগুণ ফল
  • ১৩:১৭ — সত্য ও অসত্যের তুলনা

সংক্ষেপে (করণীয়)

  • অন্তরের বিশ্বাসকে দৃঢ় ও শুদ্ধ করা।
  • জীবনে ধারাবাহিকভাবে সৎকর্ম চালিয়ে যাওয়া।
  • সবকিছুকে আল্লাহর অনুমতির উপর নির্ভরশীল মনে করা।
  • নিজের জীবনে কল্যাণের ফল হচ্ছে কি না তা যাচাই করা।

Print this entry


আপনার মতামত লিখুন :
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x