আরবি আয়াত:
وَلَا تُؤْتُوا الْكِفْلَةَ أَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ حَتَّىٰ يَبْلُغُوا أَشُدَّهُمْ ۖ وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ ۖ نَلَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۖ وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۖ وَبِعَهِدِ اللَّهِ أَوْفُوا ۚ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
ভাবার্থভিত্তিক সঠিক তর্জমা:
এবং যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর সম্পদ তোমার হাতে অরক্ষিত আছে, তা তাদের জন্য সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করো যতক্ষণ না তারা পূর্ণবয়স্ক হয়। ওজন ও মাপের ক্ষেত্রে ন্যায় বজায় রেখো। আমরা কোনো প্রাণকে তার সামর্থ্যের বেশি বোঝাপড়ার জন্য দায়ী করি না। যখন তোমরা কথা বলো, তখন ন্যায়বিচার করো, যদিও সে তোমার আত্মীয় হলেও। এবং আল্লাহর প্রতি করা চুক্তি পূর্ণ করো। এ হলো যা আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা স্মরণ করো।
সূরা ৪:৫ আয়াতটি শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং দায়িত্বশীল সামাজিক ব্যবস্থার নৈতিক দিককে তুলে ধরে। আয়াতটি শুরু হয় “যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর সম্পদ তোমার হাতে আছে, তা তাদের জন্য সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করো”–এই শর্ত দিয়ে। এটি নির্দেশ করে যে, যারা শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের অভিভাবক, তাদের দায়িত্ব হলো সম্পদ সংরক্ষণ এবং ন্যায়পরায়ণভাবে পরিচালনা করা। কুরআন এখানে একটি সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার নীতি স্থাপন করছে।
আয়াতের “حَتَّىٰ يَبْلُغُوا أَشُدَّهُمْ” অংশটি নির্দেশ করে, শিশুরা যতক্ষণ না পূর্ণবয়স্ক বা আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে, তাদের সম্পদ অভিভাবকের অধীনে থাকবে। এটি শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং পারিবারিক ও সামাজিক ভারসাম্য নিশ্চিত করে। এখানে ন্যায় ও সততা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আল্লাহ পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন।
এখানে “وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ” অর্থাৎ ওজন ও মাপে ন্যায় বজায় রাখা, শুধু ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্বেও প্রযোজ্য। এটি শেখায় যে, মানুষ কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, নৈতিক এবং কুরআনের নির্দেশ অনুসারে আচরণ করবে।
আয়াতের “نَلَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا” অংশটি মানুষের সীমাবদ্ধতা ও ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব দেওয়ার নীতি নির্দেশ করে। শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো ঠিক নয়।
আয়াতের শেষ অংশ “وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۖ وَبِعَهِدِ اللَّهِ أَوْفُوا” আমাদের শেখায় যে, কথা বলার সময়, ন্যায় এবং সততার সঙ্গে আচরণ করতে হবে, যদিও সেই ব্যক্তি আত্মীয়-স্বজন হোক। আল্লাহর প্রতি করা চুক্তি এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা নৈতিকতার অন্যতম স্তম্ভ। এটি সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক, পারিবারিক এবং সামাজিক সম্পদের ব্যবহার সবসময় ন্যায়, সততা এবং কুরআনের নির্দেশনার আলোকে হতে হবে। কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুবিধা বা আত্মীয়তার প্রভাব প্রাধান্য পাবে না।
সূরা ৪:৫ প্রমাণ করে যে, ইসলামে অর্থ ও সম্পদের ন্যায়পরায়ণ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ব্যক্তিগত এবং সমাজের জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী, সমাজে শিশুদের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সততার সঙ্গে সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
মানুষ এবং পরিবারের ন্যায়, সামাজিক সম্পর্ক এবং নারীর মর্যাদা রক্ষা।
“যারা তাদের ন্যায়পরায়ণ দায়িত্ব পালন করে, আল্লাহ তাদের উপর নজর রাখেন।”
“ন্যায়বিচার এবং পরিবারের অধিকার রক্ষা করা ঈমানদারদের মৌলিক দায়িত্ব।”
আজকের সমাজে শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পরিবারিক সম্পদের ক্ষেত্রে অনেক সময় অসাম্য দেখা যায়। আয়াতটি মনে করিয়ে দেয় যে, যেখানে শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পদ অভিভাবকের হাতে রয়েছে, সেখানে ন্যায়, সততা এবং কুরআনের নির্দেশ অনুসারে ব্যবহার করা আবশ্যক। এটি সমাজে ন্যায়, স্থিতিশীলতা এবং পারিবারিক ভারসাম্য নিশ্চিত করে।
সূরা ৪:৫ আমাদের শেখায় যে, শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, ন্যায়পরায়ণ আচরণ এবং আল্লাহর প্রতি সততা—এগুলো কেবল পারিবারিক নয়, সামাজিক ন্যায় এবং নৈতিকতার মূল ভিত্তি। এই নীতিগুলো মেনে চললে, সমাজে শিশুদের অধিকার, ন্যায় এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
