লেখক: মাহাতাব আকন্দ
প্রকাশনা: Friends of Qur’an Foundation
وَاِنَّهُمۡ لَيَصُدُّوۡنَهُمۡ عَنِ السَّبِيۡلِ وَيَحۡسَبُوۡنَ اَنَّهُمۡ مُّهۡتَدُوۡنَ
“আর তারা (শয়তানরা) তাদেরকে পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথে আছে।”
(অনুবাদ – Friends of Quran Foundation)
এই আয়াতটি মূলত শয়তান এবং মানুষের সম্পর্কের একটি গভীর বাস্তবতা তুলে ধরে। এটি নির্দেশ করে যে মানুষ প্রায়শই নিজেকে সঠিক পথেই আছে মনে করে, অথচ শয়তানের প্ররোচনায় সে ধীরে ধীরে ভ্রান্ত পথে চলে যায়।
১. শয়তানের কার্যকারিতা:
“لَيَصُدُّوۡنَهُمۡ عَنِ السَّبِيۡلِ” অংশটি বোঝায়, শয়তান সরাসরি মানুষকে বাধ্য করতে পারে না। তার ক্ষমতা সীমিত। তবে তিনি মানুষের উদাসীনতা, অহংকার, অজ্ঞতা এবং অবচেতনতা ব্যবহার করে মানুষের মনকে পথচ্যুত করে। অর্থাৎ শয়তানের প্রভাব প্রকৃতপক্ষে মানুষের নিজের ভুল নির্বাচনের মাধ্যমে কাজ করে।
২. মানুষের ভুল সচেতনতা:
“وَيَحۡسَبُوۡنَ أَنَّهُمۡ مُهْتَدُوۡنَ” অংশটি ইঙ্গিত দেয় যে, মানুষ প্রায়ই নিজের ভুলকে সঠিক মনে করে। আত্মবিশ্বাসের কারণে তারা উপলব্ধি করতে পারে না যে, তারা বিভ্রান্ত। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক এবং আত্মসংবেদনশীল অবস্থা, যা শয়তানের প্ররোচনা আরও কার্যকর করে তোলে।
৩. দুনিয়া ও উদাসীনতা:
আয়াতটি আমাদের শিখায় যে, মানুষের দৈনন্দিন জীবন, দুনিয়ার ব্যস্ততা, এবং অহংকার তাকে সহজেই ভুল পথে প্রলুব্ধ করতে পারে। মানুষ যদি নিয়মিত আত্মপর্যালোচনা না করে, আল্লাহর স্মরণে সচেতন না থাকে, তাহলে শয়তানের প্রভাবকে চিহ্নিত করতে পারবে না।
৪. আখিরাতের বাস্তবতা:
আখিরাতের দিনে প্রকৃত পথ এবং বিভ্রান্তি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে। যারা ভুলভাবে বিশ্বাস করেছে যে তারা সঠিক পথে আছে, তারা তখন তাদের ভুলের প্রকৃত ফল ভোগ করবে। এই আয়াত সতর্ক করে যে, শুধুমাত্র নিজেকে সঠিক মনে করা যথেষ্ট নয়; আল্লাহর নির্দেশ অনুসরণ ও সচেতনতা অপরিহার্য।
