লিখকঃ মাহাতাব আকন্দ।
ইসলামে নবী-রাসূলগণ আল্লাহর নির্বাচিত মানুষ হলেও তারা মানুষই। কুরআন বারবার নবীদের মানবিক সীমা, দেহগত বাস্তবতা ও আল্লাহর আইনের অধীনতা স্পষ্ট করেছে। তাই নবীদের বিষয়ে বর্ণিত যেকোনো অলৌকিক বা অতিমানবীয় ঘটনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কুরআনকে মানদণ্ড বানানো অপরিহার্য।
এই আলোচনায় আমরা বহুল প্রচলিত একটি হাদিস পর্যালোচনা করবো, যেখানে বলা হয়—
নবী মুহাম্মদের ﷺ বুক চিরে হৃদয় বের করে জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে আবার স্থাপন করা হয়েছিল।
এই বর্ণনা কুরআনের আলোকে আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, সেটিই এখানে বিবেচ্য।
فَاسْتَخْرَجَ قَلْبِي فَغَسَلَهُ بِمَاءِ زَمْزَمَ
ثُمَّ أَعَادَهُ فِي مَكَانِهِ
“তারপর আমার হৃদয় বের করা হলো, জমজমের পানি দিয়ে তা ধৌত করা হলো, এরপর আবার তা তার স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হলো।”
এই ঘটনা শৈশব ও মিরাজ-পূর্ব সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে।
এই হাদিস অনুযায়ী—
এই বর্ণনা নবীকে এমন এক সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করে, যার দেহে বারবার অলৌকিক সার্জারি সংঘটিত হয়েছে—যা কুরআনের নবী-চিত্রের সঙ্গে প্রশ্ন তৈরি করে।
কুরআন নবীকে স্পষ্ট ভাষায় মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে—
“বলুন, আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ।”
(সূরা আল-কাহফ, ১৮:১১০)
আরও বলা হয়েছে—
“আমি জানি না আমার সঙ্গে বা তোমাদের সঙ্গে কী করা হবে।”
(সূরা আল-আহকাফ, ৪৬:৯)
এই আয়াতগুলো দেখায়—নবীর দেহ, জীবন ও ভবিষ্যৎ আল্লাহর সাধারণ সুন্নাহর বাইরে নয়।
কুরআন অনুযায়ী পরিশুদ্ধি হৃদয়ের ভৌত অঙ্গের নয়, বরং ঈমান ও নৈতিকতার বিষয়—
“আল্লাহ তোমাদের দেহ বা রূপ দেখেন না, বরং তোমাদের অন্তর ও কর্ম দেখেন।”
(ভাবার্থগত শিক্ষা)
আরও বলা হয়েছে—
“যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সে নিজেরই কল্যাণ করে।”
(সূরা ফাতির, ৩৫:১৮)
কুরআন কোথাও বলেনি যে—
কুরআনে আল্লাহর আইন (সুন্নাতুল্লাহ) সম্পর্কে বলা হয়েছে—
“তুমি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন পাবে না।”
(সূরা ফাতির, ৩৫:৪৩)
বারবার বুক চিরে হৃদয় ধোয়ার মতো ঘটনা—
এই ধরনের বর্ণনা নবীকে মানুষের স্তর থেকে প্রায় অর্ধ-দেবত্বের স্তরে তুলে নেয়, যা কুরআন কখনো সমর্থন করে না।
এই আলোচনার ভিত্তিতে স্পষ্টভাবে বলা যায়—
নবীর ওপেন হার্ট সার্জারি ও জমজমের পানি দিয়ে হৃদয় ধোয়ার বর্ণনাটি কুরআনের নবী-সংক্রান্ত মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কুরআন নবীর পরিশুদ্ধিকে নৈতিক ও আত্মিক প্রক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করেছে, কোনো শারীরিক সার্জারি হিসেবে নয়।
অতএব—
এই হাদিসটি কুরআনের মানদণ্ডে প্রমাণিত নয়,
এবং আকিদাগত শিক্ষা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
Friend of Quran-এর অবস্থান:
কুরআনের বিরুদ্ধে যায়—এমন অলৌকিক বর্ণনা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের অংশ হতে পারে না।
