লিখকঃ মাহাতাব আকন্দ
কুরআন লুকমান (আ.)–এর উপদেশকে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণের পূর্ণাঙ্গ পাঠ হিসেবে সংরক্ষণ করেছে। এই উপদেশগুলো সরাসরি আল্লাহর কিতাবে নথিভুক্ত—ভাষা, বিষয় ও লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। কিন্তু প্রচলিত এক বর্ণনায় লুকমানের পুত্রকে উদ্দেশ করে ভিন্নধরনের বক্তব্য আরোপ করা হয়েছে, যা কুরআনিক বর্ণনার সাথে বিষয়বস্তু ও শৈলীতে আলাদা। প্রশ্ন ওঠে—লুকমান কি সত্যিই ওই কথাগুলো বলেছেন, নাকি কুরআনের বর্ণনাই একমাত্র নির্ভরযোগ্য দলিল?
আরবি:
وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
…
يَا بُنَيَّ إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُن فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَاوَاتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ ۚ
…
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا أَصَابَكَ ۖ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
…
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
…
وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ ۚ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ
বাংলা অর্থ (সারাংশ):
“স্মরণ কর, যখন লুকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বলেছিল—হে বৎস! আল্লাহর কোনো শরিক করো না; নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম। … হে বৎস! সরিষার দানা পরিমাণ কিছু শিলাগর্ভে, আকাশে বা মাটির নিচে থাকলেও আল্লাহ তা উপস্থিত করবেন। … হে বৎস! সালাত প্রতিষ্ঠা করো, সৎকর্মের আদেশ দাও, অসৎকর্মে নিষেধ করো এবং বিপদে ধৈর্য ধরো—এটি দৃঢ়সংকল্পের কাজ। … অহংকার করো না, উদ্ধতভাবে চলাফেরা কোরো না—আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করেন না। … সংযতভাবে চলো, স্বর নিচু রাখো—নিশ্চয়ই কণ্ঠের মধ্যে গর্দভের কণ্ঠই সর্বাপেক্ষা অপ্রতিকর।”
(সূরা লুকমান ৩১:১৩–১৯)
মূল বৈশিষ্ট্য:
আরবি (সারাংশ):
قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ: يَا بُنَيَّ، إِنَّ النَّاسَ قَدْ أُعْطُوا الدُّنْيَا طُولًا، وَهُمْ إِلَى الْآخِرَةِ يُسْرِعُونَ… إِنَّكَ مُنْذُ يَوْمِ وُلِدْتَ تَتَقَدَّمُ إِلَى الْآخِرَةِ وَتُدْبِرُ عَنِ الدُّنْيَا…
বাংলা অর্থ (সারাংশ):
“লুকমান তার পুত্রকে বললেন—হে বৎস! মানুষকে দুনিয়ার ব্যাপারে দীর্ঘ অবকাশ দেওয়া হয়েছে, আর তারা দ্রুত আখিরাতের দিকে যাচ্ছে। তুমি যেদিন জন্মেছ সেদিন থেকেই দুনিয়াকে পেছনে ফেলে আখিরাতের দিকে অগ্রসর হচ্ছো …”
(রাযীন; মেশকাত ৯/৪৯৯২)
এই বর্ণনায় যে সমস্যাগুলো দেখা যায়—
কুরআনের নীতি হলো—
আল্লাহ যা প্রয়োজন, তা স্পষ্টভাবে সংরক্ষণ করেন;
অপ্রয়োজনীয় বা অনিশ্চিত বর্ণনা তিনি কিতাবে স্থান দেন না।
কুরআনের আলোকে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত—
ফয়সালা:
আমরা যদি আমাদের সন্তানদের উপদেশ দিই, তবে কুরআনে সংরক্ষিত লুকমানের উপদেশই অনুসরণযোগ্য।
যে বর্ণনা কুরআনের বাইরে গিয়ে লুকমানের নামে নতুন বক্তব্য আরোপ করে, তা কুরআনিক দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
