প্রশ্ন: ২ – আরজ আলী হাজ্বী, ময়মনসিংহ
কুরআন তিলাওয়াত করা কি নফল নাকি ফরজ?
উত্তর:
ফরজ। কুরআন তিলাওয়াতকে নফল ইবাদত বলা কুরআনের নিজের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক। কুরআনে একাধিক স্থানে স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করা হয়েছে—তিলাওয়াত কোনো ঐচ্ছিক আমল নয়; বরং এটি ঈমানী দায়িত্ব ও ফরজ কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
প্রথমত, আল্লাহ বলেন—
الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ
“যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তা যথাযথভাবে তিলাওয়াত করে; তারাই এতে ঈমান আনে।”(সূরা আল-বাকারা ২:১২১)
এখানে লক্ষ্যণীয় শব্দ হলো ‘হাক্কা তিলাওয়াতিহি’ — যথাযথ তিলাওয়াত। আল্লাহ ঈমানের পরিচয় হিসেবে তিলাওয়াতকে দাঁড় করিয়েছেন। যদি তিলাওয়াত নফল হতো, তবে তা ঈমানের মানদণ্ড হতে পারত না। ঈমানের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয় কখনো নফল হতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, আল্লাহ রাসূল কে আদেশ দিয়ে বলেন—
وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ
“আপনার রবের কিতাব থেকে যা আপনার প্রতি ওহি করা হয়েছে, তা তিলাওয়াত করুন।”(সূরা আল-কাহফ ১৮:২৭)
এটি একটি সুস্পষ্ট আদেশমূলক বাক্য (أمر)। কুরআনিক উসূল অনুযায়ী, আল্লাহর আদেশ মূলত ফরজ নির্দেশ করে — যতক্ষণ না নফল হওয়ার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ থাকে। এখানে এমন কোনো প্রমাণ নেই। অতএব, এই আয়াত অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত ফরজ দায়িত্ব।
তৃতীয়ত, আল্লাহ বলেন—
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ
“আপনার প্রতি যে কিতাব ওহি করা হয়েছে, তা তিলাওয়াত করুন এবং সালাত কায়েম করুন।” (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৪৫)
এই আয়াতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কুরআন তিলাওয়াতের আদেশকে সালাত কায়েমের আদেশের সাথে একই বাক্যে যুক্ত করা হয়েছে। সালাত যে ফরজ — এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সুতরাং একই কাঠামোতে, একই নির্দেশে যে তিলাওয়াতের কথা বলা হয়েছে, তাকে নফল বলা যুক্তিসংগত নয়।
কিছু মানুষ বিশেষ বিশেষ কিছু সুরা বা আয়াতের ফযিলত নিয়ে ব্যাস্ত রয়েছে, তাদের ধারণা অন্য সুরা বা আয়াতসমুহ ফযিলতপুর্ণ নয়।
অথচ আমরা গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখতে পাই — বিশেষ বিশেষ কিছু সুরা বা আয়াত নয়, বরং আল্লাহ সম্পূর্ণ কুরআনকেই ফরজ ঘোষনা করেছেন (২৮:৮৫)। আর ফরজ কিতাবের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের একমাত্র মাধ্যম হলো তিলাওয়াত। তাই তিলাওয়াত ছাড়া কুরআনের ফরজ দায়িত্ব পালন অসম্ভব।
সারসংক্ষেপ: কুরআনের ভাষায়—
