লিখকঃ মাহাতাব আকন্দ
কুরআন বারবার ঘোষণা করেছে যে, বিচার হবে ব্যক্তিগত আমল, ঈমান ও নৈতিকতার ভিত্তিতে—লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়। অথচ বুখারি–মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত কিছু হাদিসে বলা হয়, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী। এতে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে—আল্লাহ কি তাঁর কিতাবে অধিক সংখ্যক নারীকে জাহান্নামে দেওয়ার কোনো ঘোষণা দিয়েছেন? যদি না দিয়ে থাকেন, তবে এই বক্তব্যগুলো কুরআনিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্য পায়?
১) জাহান্নামের দ্বারে অধিকাংশ নারী
আরবি:
فَأَطَّلِعُ إِلَى النَّارِ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ
বাংলা অর্থ:
“অতঃপর আমি জাহান্নামের দিকে তাকালাম, তখন দেখলাম—তার অধিকাংশ অধিবাসী নারী।”
(বুখারি–মুসলিম; মেশকাত ৯/৫০০৪, ৫০০৫)
২) নারী সমাজকে সদকার উপদেশ ও জাহান্নামের ঘোষণা
আরবি:
يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ، فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
বাংলা অর্থ:
“হে নারী সমাজ! তোমরা সদকা কর—even তোমাদের অলংকার থেকেও। কেননা কিয়ামতের দিন তোমরাই জাহান্নামের অধিক অধিবাসী হবে।”
(তিরমিযি; মেশকাত ৪/১৭১৬)
এই হাদিসগুলোর সম্মিলিত বক্তব্য থেকে একটি সার্বজনীন দাবি দাঁড়ায়—নারী হওয়াই যেন জাহান্নামে সংখ্যাগত আধিক্যের কারণ। কিন্তু কুরআনের কোথাও নারী-পুরুষের মধ্যে এমন সংখ্যাগত বৈষম্য ঘোষণা নেই। বরং কুরআন ন্যায়বিচার, ব্যক্তিগত দায় ও সমান প্রতিদানের নীতি প্রতিষ্ঠা করে।
আরবি:
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً
বাংলা অর্থ:
“যে কেউ সৎকর্ম করে—পুরুষ হোক বা নারী—এবং সে মুমিন হয়, আমরা তাকে উত্তম জীবন দান করব।”
(সূরা আন-নাহল ১৬:৯৭)
➡️ এখানে লিঙ্গ নয়, ঈমান ও আমলই মানদণ্ড।
আরবি:
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ
বাংলা অর্থ:
“প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জিত কর্মের জন্য দায়বদ্ধ।”
(সূরা আল-মুদ্দাসসির ৭৪:৩৮)
➡️ নারী বা পুরুষ—কারও জন্য সমষ্টিগত শাস্তির ঘোষণা নেই।
আরবি:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ
বাংলা অর্থ:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না।”
(সূরা আন-নিসা ৪:৪০)
➡️ সংখ্যাগতভাবে কোনো একটি লিঙ্গকে বেশি শাস্তি দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তোলে—যা কুরআনের ঘোষণার বিপরীত।
এই হাদিসগুলোকে আক্ষরিক ও সার্বজনীন ঘোষণা হিসেবে নিলে কয়েকটি অসামঞ্জস্য দেখা দেয়—
সর্বোচ্চ যে ব্যাখ্যা দেওয়া যায়—
কুরআনের স্পষ্ট অবস্থান—
অতএব, “জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী”—এই বক্তব্যগুলোকে চূড়ান্ত ও সার্বজনীন সত্য হিসেবে গ্রহণ করা কুরআনের ন্যায়বিচারমূলক শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ফয়সালা:
আল্লাহ তাঁর কিতাবে নারীদের অধিকাংশকে জাহান্নামে দেওয়ার কোনো ওয়াদা করেননি।
যে বক্তব্য এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করে, তা কুরআনিক মানদণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ।
