• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন

তাফসীর | সূরা ৭ : আয়াত ১৫৭

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ২১৭ Time View
Update : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তাফসীর | সূরা আল-আ‘রাফ : আয়াত ১৫৭

লেখক: মাহাতাব আকন্দ
প্রকাশনা: Friends of Quran Foundation


আরবি আয়াত

الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ ۚ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنزِلَ مَعَهُ أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ


বাংলা ভাবার্থ

যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলকে—সেই উম্মি নবীকে—যাকে তারা নিজেদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; তিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করেন, অপবিত্র বস্তু হারাম করেন এবং তাদের উপর থেকে তাদের বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ সরিয়ে দেন। অতএব যারা তাঁর প্রতি ঈমান আনে, তাঁকে মর্যাদা দেয়, তাঁকে সাহায্য করে এবং যে নূর তাঁর সঙ্গে নাযিল হয়েছে তা অনুসরণ করে—তারাই সফলকাম।


আয়াতের তাফসীর ও বিশদ ব্যাখ্যা

সূরা আল-আ‘রাফের ১৫৭ নম্বর আয়াতটি নবুওয়াতের পরিচয়, নবীর মিশন এবং মানবমুক্তির একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ঘোষণাপত্র। এখানে আল্লাহ একটি “ব্যক্তি-পরিচয়” নয়, বরং একটি “রিসালাত-পরিচয়” তুলে ধরেছেন। তাই আয়াতটি বুঝতে হলে আমাদেরকে তিনটি স্তর সামনে রাখতে হবে: (ক) এই রাসূলের পরিচয় কীভাবে স্থির হচ্ছে, (খ) তাঁর কাজ বা মিশন কী, (গ) তাঁর অনুসরণ করলে ফলাফল কী। এই তিনটি স্তরের মাঝখানে একটি শব্দ রয়েছে—“الأمي” (উম্মি)—যা নিয়ে বহু বিভ্রান্তি, অপব্যাখ্যা এবং অপপ্রচার রয়েছে। কুরআনের আলোকে “উম্মি” শব্দটি বোঝা গেলে এই আয়াতের প্রধান উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার হয়ে যায়।

আয়াত শুরু করেছে—“الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ”—যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলকে, সেই উম্মি নবীকে। এখানে একসাথে “রাসূল” ও “নবী” শব্দ এসেছে, যাতে বোঝানো হয়—তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বার্তা গ্রহণ করেন (নবী), এবং সেই বার্তা মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে দেন (রাসূল)। এই পরিচয় নিজে থেকেই একটি মৌলিক মানদণ্ড দাঁড় করায়: তাঁর বক্তব্য, তাঁর নির্দেশনা, তাঁর আহ্বান—সবকিছুর মূল উৎস আল্লাহর ওহী। কুরআন অন্যত্র এই নীতিকে একেবারে খোলা ভাষায় ঘোষণা করেছে—“وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ ۝ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ”—তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না; তা কেবল ওহী (৫৩:৩–৪)। অর্থাৎ নবীর পরিচয় মানেই হলো, তিনি মানুষের জ্ঞান-উৎপাদনের ধারায় দাঁড়িয়ে কিতাব রচনা করেননি; বরং আল্লাহর নির্দেশনা বহন করেছেন।

“উম্মি” শব্দটি আসলে কী বোঝায়?

এখন আসি “উম্মি” শব্দে। “উম্মি” (أمي) শব্দটি “উম্ম” (أم) থেকে—যার সাধারণ অর্থ “মা”। ভাষাগতভাবে “উম্মি” এমন অবস্থাকে ইঙ্গিত করতে পারে যেখানে একজন ব্যক্তি “মায়ের কাছ থেকে যেমন অবস্থায় এসেছে”—অর্থাৎ প্রাথমিক/অনাবিষ্কৃত অবস্থায় আছে। কিন্তু কুরআনের প্রয়োগে “উম্মি”কে শুধু “লেখাপড়া জানে না” এই এক লাইনে সীমাবদ্ধ করলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়; কারণ কুরআন নিজেই এই শব্দকে একটি প্রমাণ (evidence) হিসেবে দাঁড় করিয়েছে, “অযোগ্যতা (incapacity)” হিসেবে নয়।

কুরআন যে আয়াতে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট করেছে তা হলো—সূরা আনকাবুত ২৯:৪৮:
“وَمَا كُنتَ تَتْلُوا مِن قَبْلِهِ مِن كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ ۖ إِذًا لَّارْتَابَ الْمُبْطِلُونَ”
অর্থাৎ: আপনি এর আগে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং নিজ হাতে লিখতেনও না; যদি তা হতো তবে বাতিলপন্থীরা সন্দেহ করতো।
এই আয়াত “উম্মি” শব্দের কুরআনিক ব্যাখ্যার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন—নবীর পূর্ববর্তী অবস্থান এমন ছিল যে তিনি কোনো কিতাব অধ্যয়নকারী ছিলেন না, লিখিত গ্রন্থ রচনাকারীও ছিলেন না। উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য হলো “যাতে বাতিলপন্থীরা সন্দেহ করতে না পারে।” অর্থাৎ “উম্মি” পরিচয়টি নবুওয়াতের বিরুদ্ধে আপত্তি নয়; বরং নবুওয়াতের সত্যতার পক্ষে এক শক্ত প্রমাণ। কারণ যদি তিনি পূর্বে গ্রন্থ অধ্যয়ন করতেন, লিখতেন, তাওরাত-ইঞ্জিল বা অন্য সাহিত্যিক ধারায় প্রশিক্ষিত থাকতেন—তাহলে যারা সত্য অস্বীকার করতে চায় তারা বলত: “এগুলো তিনি আগের বই থেকে শিখেছেন।” কুরআন এই সম্ভাব্য অভিযোগের দরজা আগেই বন্ধ করেছে। ফলে “উম্মি” শব্দের অন্যতম তাৎপর্য দাঁড়ায়: তিনি আগের কিতাব-পাঠ থেকে শিক্ষা নিয়ে কুরআন তৈরি করেননি। তাঁর কাছে কুরআন এসেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে—ওহী হিসেবে।

এখন আরেকটি কুরআনিক ব্যবহার লক্ষ করুন—সূরা জুমু‘আ ৬২:২:
“هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ”
তিনি “উম্মিদের মধ্যে” একজন রাসূল পাঠিয়েছেন। এখানে “উম্মিয়্যীন” বলতে এমন এক সমাজকে বোঝানো হয়েছে যারা আহলে কিতাবের মতো পূর্ববর্তী লিখিত ঐশী শিক্ষাধারায় সংগঠিতভাবে শিক্ষিত ছিল না। অর্থাৎ কুরআন “উম্মি” ধারণাকে একদিকে ব্যক্তি (উম্মি নবী), অন্যদিকে সমাজ (উম্মিয়্যীন) হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে ইঙ্গিত হচ্ছে—এই নবী এমন এক পরিবেশে এসেছেন যেখানে গ্রন্থকেন্দ্রিক শিক্ষার ঐতিহ্য ছিল না; তবুও তিনি এমন এক কিতাব আনলেন যা ভাষা, যুক্তি, নৈতিকতা, আইন, আখলাক—সবকিছুতে মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ করে। এখানেই “উম্মি” শব্দের আরেকটি গভীরতা: মানবীয় শিক্ষাগত প্রস্তুতি ছাড়াই আল্লাহ তাঁকে এমন জ্ঞানের বাহক করেছেন যা বিশ্বসভ্যতাকে বদলে দিয়েছে। ফলে “উম্মি” মানে “মূর্খ” নয়; বরং “মানবীয় গ্রন্থশিক্ষার দ্বারা গঠিত নয়”—যার মাধ্যমে আল্লাহর ওহী কতটা স্বাধীন ও ঐশী, তা প্রকাশ পায়।

আরও পরিষ্কারভাবে বললে: “উম্মি” শব্দটি দুইটি স্তর একসাথে বহন করে—(১) তিনি আগের কিতাবপাঠের ছাত্র ছিলেন না; (২) তিনি মানুষের বানানো শিক্ষাতন্ত্রের উৎপাদিত বক্তা/লেখক ছিলেন না। তাই কুরআনের শক্তি, ভাষার গঠন, আইনগত ভারসাম্য, নৈতিক দিকনির্দেশ—এসবকে “মানবীয় প্রস্তুতির ফল” বলা যাবে না। এখানেই কুরআনের যুক্তি: নবীর ‘উম্মিয়্যাহ’ তাঁর নবুওয়াতের বিরুদ্ধে নয়; বরং তাঁর নবুওয়াতের সপক্ষে প্রমাণ।

নবী কি মূর্খ ছিলেন?

আপনি যে প্রশ্নটি তুলেছেন—“নবী কি মূর্খ ছিলেন?”—কুরআন এই অপবাদকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। কারণ কুরআন নবীকে যে ভাষায় উপস্থাপন করেছে, তা মূর্খতার বিপরীত। উদাহরণ: সূরা ক্বালাম ৬৮:৪“وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ”—নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত। মহান চরিত্রের ভিত্তি হলো প্রজ্ঞা, আত্মসংযম, ন্যায়, সত্যনিষ্ঠা—এসব গুণ মূর্খতার সাথে যায় না। আবার সূরা নিসা ৪:১১৩-এ আল্লাহ নবীকে বলেছেন—“وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُن تَعْلَمُ”—আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না। অর্থাৎ তাঁর জ্ঞানের উৎস আল্লাহর শিক্ষা। তিনি মানবীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র না হলেও আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন—এটাই কুরআনের অবস্থান। ফলে “উম্মি” শব্দের অর্থ দাঁড়ায়: তিনি আল্লাহর শেখানো জ্ঞানের বাহক, মানবীয় শিক্ষানির্ভর রচয়িতা নন।

পূর্ববর্তী কিতাবে তাঁর উল্লেখ: “মাকতূবান ‘ইন্দাহুম”

আয়াতে এরপর বলা হয়েছে—“الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ”—যাকে তারা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। এর তাৎপর্য হলো: নবুওয়াত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ধারাবাহিক। আল্লাহ মানবজাতিকে যুগে যুগে পথ দেখিয়েছেন, এবং শেষ রাসূলের আগমনও পূর্ববর্তী ওহীর ধারায় ইঙ্গিতিত ছিল। এখানে লক্ষ্য করুন—যে নবী নিজে আগের কিতাব পাঠ করেননি (উম্মি), তাকেই আল্লাহ বলছেন—আহলে কিতাবরা তাদের কিতাবে তাঁকে “লিখিত” পায়। অর্থাৎ সত্য অনুসন্ধানী মানুষ চাইলে আগের ধারার সাক্ষ্যও দেখতে পারে, আবার কুরআনের নিজস্ব সত্যও দেখতে পারে। ফলে এখানে ‘উম্মি’ পরিচয় এবং ‘মাকতূব’ সাক্ষ্য একসাথে দাঁড়িয়ে যায়—একদিকে তিনি আগের বই পড়ে কুরআন বানাননি, অন্যদিকে আগের ধারার লোকেরা তাঁকে তাদের ঐতিহ্যে চিনতে পারে। এটাই কুরআনের যুক্তির সৌন্দর্য।

নবীর মিশন: সমাজকে নৈতিকভাবে গঠন

তারপর আয়াত নবীর কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরে—তিনি সৎকাজের নির্দেশ দেন, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন—“يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ”। এই নির্দেশ ব্যক্তিগত নৈতিকতা থেকে সমাজনৈতিকতায় উঠে যায়। কুরআনের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তি তৈরি নয়; সমাজকে সুবিচার ও পবিত্রতার দিকে নেওয়া। এরপর তিনি “তাইয়্যিবাত” হালাল করেন—পবিত্র কল্যাণকর জিনিস; এবং “খাবায়িস” হারাম করেন—ক্ষতিকর অপবিত্র জিনিস। এখানে কুরআনের আইনগত ভারসাম্য ফুটে ওঠে: ইসলাম মানুষের জন্য জীবন সংকীর্ণ করেনি; বরং যা কল্যাণকর তা বৈধ রেখেছে এবং যা ক্ষতিকর তা থেকে রক্ষা করেছে।

এরপর এসেছে আয়াতের অন্যতম সুন্দর বাক্য—“وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْمْ”—তিনি তাদের উপর থেকে বোঝা ও শৃঙ্খল সরিয়ে দেন। “ইসর” মানে ভারী বোঝা, “আগলাল” মানে শৃঙ্খল। এখানে মিশনের একটি কেন্দ্রীয় দিক হলো: মানুষকে অযৌক্তিক কঠোরতা, জুলুম, ভ্রান্ত শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা। কুরআন মানবজীবনকে এমনভাবে সাজায় যাতে দায়িত্ব থাকে কিন্তু অত্যাচার না থাকে, শৃঙ্খলা থাকে কিন্তু শ্বাসরোধ না হয়। এই মুক্তির নীতি কুরআনের সামগ্রিক নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—“لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا”—আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না (২:২৮৬)।

সফলতার শর্ত: ঈমান, মর্যাদা, সাহায্য, নূরের অনুসরণ

আয়াত শেষে সফলতার চারটি শর্ত বলেছে: যারা ঈমান আনে, তাঁকে মর্যাদা দেয়, তাঁকে সাহায্য করে, এবং তাঁর সাথে নাযিলকৃত “নূর” অনুসরণ করে—তারাই সফল। এখানে “নূর” বলতে কুরআনকে বোঝানো হয়েছে—কারণ কুরআন নিজেকে নূর হিসেবে বহু জায়গায় উল্লেখ করে। অর্থাৎ “নবীকে অনুসরণ” মানে অন্ধ আবেগ নয়; মানে তাঁর সাথে নাযিলকৃত আল্লাহর নূর—কুরআনের নির্দেশনা—অনুসরণ। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য: নবী-অনুসরণ কুরআন-অনুসরণের সাথে জড়িত; দু’টি আলাদা পথে বিভক্ত নয়।

“উম্মি” শব্দের চূড়ান্ত শিক্ষা

এখন “উম্মি” শব্দে ফিরে আসি এবং পুরো আয়াতের আলোকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দাঁড় করাই: কুরআন নবীকে “উম্মি” বলে তাঁর জ্ঞানকে খাটো করেনি; বরং তাঁর জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে নির্দেশ করেছে। মানুষ যদি ভাবে “লেখাপড়া না জানলে মানুষ অক্ষম”—কুরআন দেখায় আল্লাহ যাকে চান জ্ঞান দেন। মানুষ যদি ভাবে “কিতাব লিখতে না পারলে মহাজ্ঞানী হওয়া যায় না”—কুরআন দেখায় ওহী মানুষের শিক্ষা-পরিকাঠামোর বাইরে থেকে আসে। আর মানুষ যদি ভাবে “এই কিতাব হয়তো আগের বই থেকে কপি”—কুরআন ২৯:৪৮ দিয়ে সেই সন্দেহের মূলেই আঘাত করে। ফলে “উম্মি” শব্দ নবুওয়াতের বিরুদ্ধে নয়; নবুওয়াতের পক্ষে। এটি প্রমাণ করে: এই কিতাব মানবীয় শিক্ষার তৈরি নয়, এই বার্তা আল্লাহর; এবং এই নবী আল্লাহর মনোনীত বার্তাবাহক।


সম্পর্কিত আয়াতসমূহ

২৯:৪৮ — তিনি পূর্বে কোনো কিতাব পড়তেন না, লিখতেনও না; যাতে বাতিলপন্থীরা সন্দেহ না করে।
৫৩:৩–৪ — তাঁর বক্তব্য ওহীভিত্তিক।
৪:১১৩ — আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তিনি জানতেন না।
৬২:২ — উম্মিয়্যীনদের মধ্যে রাসূল প্রেরণ।
৬৮:৪ — মহান চরিত্রের স্বীকৃতি।


সংক্ষেপে (করণীয়)

এই আয়াত আমাদের শেখায়: “উম্মি” মানে মূর্খ নয়; বরং মানবীয় গ্রন্থশিক্ষা-নির্ভর নয়—এটাই ওহীর সত্যতার প্রমাণ। নবীকে অনুসরণ করতে হলে তাঁর সাথে নাযিলকৃত “নূর”—কুরআন—অনুসরণ করতে হবে। নৈতিকতা (মা‘রূফ), অন্যায় বর্জন (মুনকার), পবিত্র-অপবিত্রের ভারসাম্য, এবং শৃঙ্খলমুক্তির বার্তা—এগুলোই তাঁর মিশনের কেন্দ্র। যারা ঈমান, মর্যাদা, সাহায্য ও কুরআনের নূরের অনুসরণে স্থির থাকবে—কুরআনের ভাষায়—“أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ”—তারাই সফলকাম।


Print this entry


আপনার মতামত লিখুন :
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Zaman
Zaman
2 months ago

This is a good site for Quran inshallah ❣️

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page

1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x