অধ্যায় ১: নাম, ভিত্তি ও লক্ষ্য — ধারা ১–১০
অধ্যায় ২: মৌলিক নীতিমালা — ধারা ১১–২০
অধ্যায় ৩: সদস্যপদ — ধারা ২১–৩০
অধ্যায় ৪: সদস্য শ্রেণিবিন্যাস — ধারা ৩১–৪০
অধ্যায় ৫: সদস্যের দায়িত্ব — ধারা ৪১–৫০
অধ্যায় ৬: সদস্যের অধিকার — ধারা ৫১–৫৮
অধ্যায় ৭: শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থা — ধারা ৫৯–৬৮
অধ্যায় ৮: নেতৃত্ব কাঠামো — ধারা ৬৯–৭৮
অধ্যায় ৯: নেতৃত্বের দায়িত্ব — ধারা ৭৯–৮৬
অধ্যায় ১০: আমীর নির্বাচন — ধারা ৮৭–৯২
অধ্যায় ১১: অর্থ ও প্রশাসন — ধারা ৯৩–৯৬
অধ্যায় ১২: সংশোধন ও সমাপনী — ধারা ৯৭–১০০
সংগঠনের নাম হবে (ফ্রেন্ডস অফ কুরআন ফাউন্ডেশন), বা কুরআনের সঙ্গীদের প্রতিষ্ঠান। যার অর্থ— কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন কারীদের প্রতিষ্ঠান, যারা কুরআনকে বুঝেন, মানেন এবং জীবনে বাস্তবায়ন করেন তাদের অলাভজনক সংগঠন। (২:২), (১৭:৯)
সংগঠনের সকল চিন্তা, সিদ্ধান্ত, কর্মসূচি ও নীতিমালা কুরআনের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে এবং কুরআনবিরোধী কোনো নীতি গ্রহণযোগ্য হবে না। (৫:৪৯), (৬:১৫৫)
সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে কুরআনের দিকে ফিরিয়ে এনে সমাজকে নৈতিক ও সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং কুরআন শিক্ষা, সচেতনতা ও নৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন করা। (১৩:১১), (১৬:৯০)
সংগঠন ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যন্ত ধাপে ধাপে সংস্কারের নীতি অনুসরণ করবে এবং আত্মসংস্কার, পারিবারিক কুরআন চর্চা ও সামাজিক দাওয়াহের মাধ্যমে বৃহৎ পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেবে। (৬৬:৬), (১৩:১১)
সংগঠন সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি ও জুলুম দূর করার জন্য কাজ করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি, সত্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের পক্ষে সক্রিয় অবস্থান গ্রহণ করবে। (৪:১৩৫), (৫:৮)
সংগঠন মুসলিমদের কুরআনের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করবে এবং বিভাজনের পরিবর্তে কুরআনের আলোকে একতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাবে। (৩:১০৩)
সংগঠন একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে এবং ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুবিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। (৫৭:২৫), (৪:৫৮)
সংগঠন মানুষের কল্যাণ, সহানুভূতি ও উত্তম আচরণ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে এবং সমাজসেবা, দরিদ্র সহায়তা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। (১৬:৯০), (২:১৯৫)
সংগঠনের সকল কাজ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পাদিত হবে এবং নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা ও লোক দেখানো পরিহার করা হবে। (৬:১৬২), (৯৮:৫)
সংগঠনের মূল স্লোগান হবে “কুরআন দিয়ে মানুষ, মানুষ দিয়ে সমাজ”, যার মাধ্যমে কুরআনের আলোকে মানুষ গঠন এবং মানুষের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে। (১৩:১১), (১৭:৯)
সংগঠনের সকল সিদ্ধান্ত, নীতি ও দিকনির্দেশনার চূড়ান্ত মানদণ্ড হবে কুরআন। কোনো বিষয়ে মতভেদ হলে কুরআনের দিকে ফিরে যাওয়া হবে এবং ব্যক্তিগত মতের উপর কুরআনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। (৪:৫৯), (৬:১১৪)
সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এককভাবে নয়, বরং পরামর্শের মাধ্যমে নেওয়া হবে। এজন্য শুরা সভা করা, সদস্যদের মতামত গ্রহণ করা এবং একনায়কতন্ত্র পরিহার করা হবে। (৪২:৩৮), (৩:১৫৯)
সংগঠন জোর-জবরদস্তি নয়, বরং জ্ঞান, যুক্তি ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের কাছে দাওয়াহ পৌঁছাবে। এজন্য কোমল ভাষায় কথা বলা, যুক্তি দিয়ে বুঝানো এবং সংঘাত এড়িয়ে চলা হবে। (১৬:১২৫), (২:২৫৬)
সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে উচ্চ নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এজন্য সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। (৩৩:৭০), (২৩:৮)
সংগঠনের ভেতরে দলাদলি, হিংসা ও বিরোধ সৃষ্টি করা যাবে না। মতভেদ হলে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সংগঠনে আনা যাবে না। (৩:১০৫), (৮:৪৬)
সংগঠনের ভিতরে ঐক্য বজায় রাখা হবে এবং নেতৃত্বের অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। এজন্য একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা, সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে চলা এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখা হবে। (৩:১০৩), (৮:৪৬)
সংগঠন সর্বদা সত্যের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করবে, যদিও তা নিজের বিপক্ষে যায়। এজন্য সত্য কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং পক্ষপাতিত্ব পরিহার করা হবে। (৪:১৩৫), (৫:৮)
প্রতিটি সদস্য নিজের নফস, চরিত্র ও অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য সচেষ্ট থাকবে। এজন্য নিজের ভুল সংশোধন করা, অহংকার ত্যাগ করা এবং তাকওয়া বৃদ্ধি করা হবে। (৯১:৯)
সংগঠন বাস্তব জীবনে মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। এজন্য দরিদ্র সহায়তা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। (১৬:৯০), (২:১৯৫)
সংগঠনের প্রতিটি সদস্য ও নেতৃত্ব জবাবদিহির আওতায় থাকবে। এজন্য অর্থের হিসাব রাখা, দায়িত্বের রিপোর্ট প্রদান করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকা হবে। (১৭:৩৬), (৯৯:৭-৮)
সংগঠনে সদস্যপদ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে এবং কাউকে জোরপূর্বক সদস্য করা যাবে না; সদস্য হতে হলে নিজে থেকে আগ্রহী হয়ে আবেদন করতে হবে এবং কোনো প্রকার চাপ, প্রলোভন বা ভয় দেখানো যাবে না। (২:২৫৬)
সদস্য হওয়ার জন্য কুরআন শেখার আন্তরিক মানসিকতা থাকতে হবে এবং নিয়মিত কুরআন পড়া, আয়াত বোঝা ও শেখার আগ্রহ থাকা আবশ্যক; এজন্য প্রাথমিকভাবে কুরআন ক্লাসে অংশগ্রহণ ও নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। (৩৮:২৯), (৪৭:২৪)
সংগঠনের সদস্য হতে হলে ন্যূনতম নৈতিক চরিত্র থাকা বাধ্যতামূলক এবং মিথ্যা, প্রতারণা ও জুলুম থেকে দূরে থেকে সৎ ও আমানতদার আচরণ করতে হবে; প্রয়োজনে আচরণ ও চরিত্র যাচাই করা হবে। (৩৩:৭০), (২৩:৮)
প্রত্যেক সদস্যকে সংগঠনের নীতি ও আদর্শ মেনে চলার জন্য শপথ গ্রহণ করতে হবে এবং সচেতনভাবে অঙ্গীকার করতে হবে; প্রয়োজনে লিখিত বা মৌখিকভাবে এই অঙ্গীকার সম্পন্ন করা হবে। (৪৮:১০), (৬০:১২)
প্রত্যেক সদস্যকে সংগঠনের নিয়ম, শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে। (৪:৫৯)
সংগঠনে বিভিন্ন স্তরের সদস্য থাকবে—পর্যবেক্ষণ সদস্য, সাধারণ সদস্য, সক্রিয় সদস্য ও কর্মী সদস্য; সদস্যদের যোগ্যতা ও কার্যক্রমের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে উন্নীত করা হবে। (৫৮:১১)
প্রত্যেক সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হতে হবে এবং নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে; এই তথ্য সংগঠনের রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। (২:২৮২)
প্রত্যেক সদস্যকে একটি ইউনিক পরিচয় নম্বর বা আইডি প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে তাকে সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত করা যাবে।
সংগঠনের সকল সদস্যের তথ্য একটি সুশৃঙ্খল তালিকায় সংরক্ষণ করা হবে এবং নিয়মিতভাবে তা আপডেট ও যাচাই করা হবে। (১৮:৪৯)লেখা ফ@
সদস্যপদ স্থায়ী হবে; তবে সদস্যদের কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো সদস্য নিষ্ক্রিয়, অমনোযোগী বা সাংগঠনিক নিয়ম ভঙ্গ করলে তার সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে। (৯:১০৫)
যারা সংগঠনে নতুন যোগ দিয়ে প্রাথমিকভাবে যুক্ত থাকে তারা সাধারণ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের নিয়মিত উপস্থিতি, কুরআন অধ্যয়ন ও সংগঠনের মৌলিক নিয়ম শেখার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হবে। (২:১২১)
যারা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে এবং দাওয়াহ কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে শুরু করে তারা সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের কার্যক্রম ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। (৯:১০৫)
যারা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং প্রোগ্রাম আয়োজন ও ইউনিট ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকে তারা কর্মী সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করা হবে। (৬১:৪)
যারা সংগঠনের নেতৃত্ব প্রদান করে এবং সদস্যদের পরিচালনা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে তারা দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবে। (২২:৪১)
সংগঠনের অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা উপদেষ্টা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকবে এবং তারা নীতি নির্ধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবে। (১৬:৪৩)
নতুন সদস্যদের সরাসরি পূর্ণ সদস্য করা হবে না; তাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রেখে আচরণ, নিয়ম মানা ও অংশগ্রহণ যাচাই করে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা হবে। (৪৯:৬)
সদস্যদের পদোন্নতি স্বয়ংক্রিয় হবে না; বরং নিয়মিত উপস্থিতি, নৈতিকতা, কাজের দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে ধাপে ধাপে উন্নীত করা হবে। (৫৮:১১)
প্রতিটি সদস্যকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কাজ, আচরণ ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে এবং এই মূল্যায়নের মাধ্যমে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে। (৯৯:৭-৮)
সদস্যদের উন্নয়নের জন্য নিয়মিত কুরআন শিক্ষা, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা হবে যাতে তারা দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠতে পারে। (২০:১১৪)
প্রতিটি সদস্যের জন্য ধাপে ধাপে উন্নয়নের পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ, মেন্টরশিপ ও নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে তাদের উন্নত করা হবে। (১৩:১১)
প্রতিটি সদস্যের জীবনের কেন্দ্র হবে কুরআন এবং সে প্রতিদিন কুরআন পড়া, অর্থ বোঝা ও আয়াত নিয়ে চিন্তা করার মাধ্যমে নিজের জীবন পরিচালনা করবে। (৩৮:২৯), (৪৭:২৪)
প্রতিটি সদস্য সংগঠনের সকল প্রোগ্রাম ও কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং নিয়মিত সভা ও দাওয়াহ কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবে। (৯:১০৫)
সদস্যের ব্যক্তিগত জীবন নৈতিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সে মিথ্যা, প্রতারণা ও অসৎ আচরণ পরিহার করে সৎ ও আমানতদার জীবনযাপন করবে। (৩৩:৭০), (২৩:৮)
সদস্য সর্বদা সত্য কথা বলবে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই মিথ্যার আশ্রয় নেবে না, বরং সত্য প্রকাশে দৃঢ় থাকবে। (৯:১১৯)
সদস্য সময়নিষ্ঠ হবে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপস্থিতি ও দায়িত্ব সম্পন্ন করবে, সময়ের অপচয় থেকে বিরত থাকবে। (১০৩:১-৩)
প্রত্যেক সদস্য তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর তা সম্পূর্ণ করার জন্য সচেষ্ট থাকবে। (১৭:৩৪)
সদস্য অন্যায়, জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে এবং সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় থাকবে। (৪:১৩৫), (৫:৮)
সদস্য সমাজের কল্যাণে কাজ করবে এবং দরিদ্র, অসহায় ও মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে। (২:১৯৫), (১৬:৯০)
সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকবে এবং তারা ঝগড়া, বিভক্তি ও বিরোধ থেকে দূরে থাকবে। (৩:১০৩), (৮:৪৬)
সদস্য এমন কোনো কাজ করবে না যা সংগঠনের সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং সর্বদা শালীন, দায়িত্বশীল ও সতর্ক আচরণ করবে। (৪৯:১১-১২)
প্রত্যেক সদস্য সংগঠনের বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারবে এবং সভা বা শুরার মাধ্যমে উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দিতে পারবে। (৪২:৩৮), (৩:১৫৯)
প্রতিটি সদস্য তার জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণের অধিকার রাখে এবং সংগঠন তাকে কুরআন শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করবে। (২০:১১৪)
প্রত্যেক সদস্য সংগঠনের যেকোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করার অধিকার রাখে এবং তার দ্বিধা বা অজ্ঞতা দূর করার জন্য জিজ্ঞাসা করতে পারবে। (১৬:৪৩)
কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে এবং তার পক্ষে কথা বলার সুযোগ প্রদান করতে হবে, বিচার হবে পক্ষপাতহীনভাবে। (৪:৫৮), (৫:৮)
প্রতিটি সদস্য সংগঠনের কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার অধিকার রাখে এবং সংগঠন স্বচ্ছতার মাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশ করবে। (১৭:৩৬)
প্রতিটি সদস্য তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও কার্যক্রমের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ পাবে এবং নিজেকে উন্নত করার মাধ্যমে উচ্চতর দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে। (৫৮:১১)
কোনো সদস্য অন্যায়, সমস্যা বা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার অধিকার রাখে এবং তার অভিযোগ যথাযথভাবে গ্রহণ ও তদন্ত করা হবে। (৪:১৩৫)
সংগঠনে সদস্যপদ স্বেচ্ছাসেবী হওয়ায় কোনো সদস্য চাইলে সংগঠন ত্যাগ করতে পারবে, তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। (২:২৫৬)
সংগঠনের নিয়ম, নীতি ও আদর্শ ভঙ্গ করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং মিথ্যা বলা, দায়িত্ব অবহেলা, সংগঠনের বিরুদ্ধে কাজ করা বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা এসব অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হবে। (৮:৪৬)
প্রথম পর্যায়ে শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং ভুল বুঝিয়ে মৌখিক সতর্কবার্তার মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করা হবে। (১৬:১২৫)
ভুল অব্যাহত থাকলে সদস্যকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে স্থগিত রাখা হবে এবং সংশোধনের সুযোগ প্রদান করা হবে। (৪:১৬)
গুরুতর অপরাধ বা বারবার শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে সদস্যপদ বাতিল করা হবে এবং তদন্ত শেষে শুরার অনুমোদনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। (৯:৬৭)
কোনো অভিযোগ এলে সরাসরি শাস্তি দেওয়া হবে না; বরং নিরপেক্ষ তদন্ত করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। (৪৯:৬)
কোনো সদস্যকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া যাবে না এবং বিচার প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পক্ষপাতহীনভাবে সম্পন্ন করা হবে। (৪:১৩৫), (৫:৮)
শাস্তিপ্রাপ্ত সদস্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করার অধিকার রাখবে এবং তার আবেদন পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্ত করা হবে। (৩৯:১৮)
কোনো সদস্য তার ভুল সংশোধন করলে তাকে পুনরায় সংগঠনে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে এবং পরীক্ষামূলক সময়ের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। (৩৯:৫৩)
দুর্নীতি, বিশ্বাসঘাতকতা ও সংগঠনের ক্ষতি করার মতো কাজগুলো গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এসব ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। (২:২০৫)
সংগঠনের সম্মান ক্ষুণ্ন করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা বা প্রয়োজন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (৪৯:১১-১২)
সংগঠনের একটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাঠামো থাকবে যার মাধ্যমে পুরো সংগঠন পরিচালিত হবে এবং এতে আমীর, নায়েবে আমীর, সম্পাদকমণ্ডলী ও শুরা পরিষদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। (২২:৪১)
আমীর সংগঠনের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করবে এবং ন্যায়ভিত্তিকভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও সংগঠন পরিচালনা করবে। (৪:৫৮), (২৮:২৬)
নায়েবে আমীর আমীরকে সহায়তা করবে এবং তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবে, পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমে সমন্বয় রক্ষা করবে। (২০:২৯-৩২)
সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষা, দাওয়াহ, সংগঠন, অর্থ ও মিডিয়া বিভাগসহ সম্পাদকমণ্ডলী থাকবে এবং তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। (৬১:৪)
দেশ বা অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্ব কাঠামো গঠন করা হবে যাতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় এবং কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় বজায় থাকে। (৮:৬০)
জেলা পর্যায়ে সংগঠন পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট নেতৃত্ব থাকবে যারা ইউনিট পরিচালনা ও সদস্যদের তদারকি করবে এবং কেন্দ্রকে নিয়মিত রিপোর্ট প্রদান করবে।
সংগঠনের মূল ভিত্তি হবে স্থানীয় ইউনিট এবং মহল্লা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ইউনিটের মাধ্যমে কুরআন চক্র ও সদস্য গঠন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। (৯:১২২)
অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে যারা নীতি নির্ধারণে পরামর্শ দেবে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। (১৬:৪৩)
সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুরা পরিষদের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে এবং পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করা হবে। (৪২:৩৮), (৩:১৫৯)
নেতৃত্ব স্থায়ী হবে না; নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হবে এবং মেয়াদ শেষে মূল্যায়নের মাধ্যমে পুনর্নির্বাচন বা পরিবর্তন করা হবে। (২৮:২৬)
নেতৃত্বের সকল সিদ্ধান্ত কুরআনের আলোকে গ্রহণ করতে হবে এবং ব্যক্তিগত মত, আবেগ বা স্বার্থের পরিবর্তে কুরআনের নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। (৫:৪৯)
নেতৃত্ব সদস্যদের দেখভাল করবে এবং তাদের সমস্যা শোনা, উন্নয়নে সহায়তা করা ও সহানুভূতির সাথে আচরণ করা নেতৃত্বের দায়িত্ব। (৯:১২৮)
নেতৃত্ব এককভাবে সিদ্ধান্ত নেবে না; বরং শুরা ও পরামর্শের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। (৪২:৩৮), (৩:১৫৯)
নেতৃত্ব সর্বদা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং পক্ষপাতহীনভাবে বিচার করবে, নিজের লোক হলেও অন্যায় হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (৪:১৩৫), (৫:৮)
নেতৃত্ব সংগঠনের কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করবে এবং কাজ বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল রাখবে। (৬১:৪)
নেতৃত্ব সদস্যদের জন্য নিয়মিত কুরআন শিক্ষা, নৈতিক প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কার্যক্রম নিশ্চিত করবে। (২০:১১৪)
নেতৃত্ব জবাবদিহির আওতায় থাকবে এবং তাদের কার্যক্রমের রিপোর্ট প্রদান ও সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। (১৭:৩৬), (৯৯:৭-৮)
নেতৃত্বের সকল কার্যক্রম স্বচ্ছ হতে হবে এবং অর্থ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। (২:২৮২)
আমীর নির্বাচন শুরা পরিষদের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হবে। (৪২:৩৮), (৩:১৫৯)
আমীর হওয়ার জন্য কুরআনের জ্ঞান, নৈতিক চরিত্র, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও বিশ্বস্ততা থাকা আবশ্যক এবং এসব গুণ যাচাই করে নির্বাচন করা হবে। (২৮:২৬), (৪:৫৮)
আমীর পদে নিজে থেকে প্রার্থী হওয়া যাবে না; বরং শুরা সদস্যদের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। (৫৩:৩২)
আমীর নির্বাচন ঐকমত্য বা ভোটের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এবং সকল সদস্যের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। (৪২:৩৮)
নির্বাচিত আমীর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং সদস্যদের কাছ থেকে আনুগত্যের অঙ্গীকার গ্রহণ করা হবে। (৪৮:১০)
আমীর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে, অন্যায় করলে বা কুরআনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলে শুরার মাধ্যমে তদন্ত করে তাকে অপসারণ করা হবে। (৪:১৩৫), (৫:৮)
সংগঠনের সকল অর্থ হালাল, বৈধ ও স্বচ্ছ উৎস থেকে আসতে হবে এবং কোনো অবৈধ বা সন্দেহজনক উৎস গ্রহণ করা যাবে না। (২:১৮৮), (৫:১০০)
সংগঠনের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব লিখিত ও স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সদস্যদের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট প্রদান করতে হবে। (২:২৮২), (১৭:৩৫)
সংগঠনের অর্থ নিয়মিত নিরীক্ষার আওতায় থাকবে এবং নিরপেক্ষভাবে হিসাব যাচাই করে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করা হবে। (৪:৫৮), (৯৯:৭-৮)
সংগঠনের অর্থ আত্মসাৎ, অপচয় বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। (৮:২৭), (৪:২৯)
সংবিধান সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা যাবে, তবে সকল সংশোধন অবশ্যই কুরআনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং কুরআনবিরোধী কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। (৫:৪৯), (৪:৫৯)
সংবিধানের কোনো সংশোধন এককভাবে করা যাবে না; বরং শুরা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে আলোচনা ও যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। (৪২:৩৮), (৩:১৫৯)
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে, তবে তা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং পরবর্তীতে শুরা পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে। (৮:৬০), (৩:১৫৯)
সংগঠনের সকল কাজের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রতিটি কাজ বিশুদ্ধ নিয়ত ও একনিষ্ঠতার সাথে সম্পাদন করতে হবে। (৬:১৬২), (৯৮:৫)
