প্রশ্নু৪: আক্তারুল ইসলাম আসিক, পঞ্চগড়।
আমি আরবী কুরআন পড়তে পারিনা, আমার জন্য করণীয় কি জানালে উপকৃত হব?
উত্তর:
কুরআন কেবল পাঠযোগ্য কিতাব নয়; এটি শ্রবণযোগ্য ও অনুধাবনযোগ্য কিতাবও। আল্লাহ এমন কোনো দায়িত্ব চাপাননি যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। কেউ যদি আরবি পড়তে না পারে, অক্ষর চিনতে না জানে বা শারীরিকুমানসিক কারণে তিলাওয়াত করতে অক্ষম হয়—তাহলে তার জন্য কুরআনের বিকল্প নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ হলো—মনোযোগ দিয়ে কুরআন শোনা।
আল্লাহ বলেন—
وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
“যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নীরব থাকো—যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়।”(সূরা আল-আরাফ ৭:২০৪)
এই আয়াতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আল্লাহ কুরআন শোনাকে কোনো ঐচ্ছিক কাজ হিসেবে নয়; বরং একটি স্পষ্ট আদেশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন— ‘ফাস্তামিউ’ (মনোযোগ দিয়ে শোনো) এবং ‘ওয়ানসিতু’ (নীরব থাকো)। আদেশমূলক ভাষা হওয়ায় এটি দায়িত্ব নির্দেশ করে, শুধু পরামর্শ নয়।
এর মাধ্যমে আল্লাহ পরিষ্কার করে দিয়েছেন—কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার একমাত্র উপায় পড়া নয়। যারা পড়তে পারে না, তারা শোনার মাধ্যমেও কুরআনের সাথে ফরজ সংযোগ বজায় রাখতে পারে। কুরআন কখনোই মানুষকে বঞ্চিত করে না।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শোনার ধরন। আয়াতে ‘শোনা’ বলতে পেছনে বাজতে থাকা শব্দ বোঝানো হয়নি; বরং বলা হয়েছে—গভীর মনোযোগসহ, নীরবতা রক্ষা করে শোনা। অর্থাৎ হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করা, গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করা। এমন শোনাই আল্লাহর রহমতের কারণ হয়।
বর্তমান সময়ে এই নির্দেশ পালন করা আরও সহজ হয়েছে। কুরআন তিলাওয়াত মোবাইল, রেডিও, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য। কেউ চাইলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় কুরআন শুনতে পারে—এটিও কুরআনিক দায়িত্ব পালনের অন্তর্ভুক্ত।
এ কথা মনে রাখা জরুরি—পড়তে না পারা কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু কুরআনের সাথে সম্পর্ক না রাখা অপরাধ হতে পারে। পড়তে না পারলে শোনা ফরজ দায়িত্বের বিকল্প নয়; বরং ফরজেরই একটি বৈধ পদ্ধতি।
সারসংক্ষেপ:
