• বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন

সালামুন আলা আদমের উপর কিতাব ও তাঁর দ্বীন

Reporter Name: মাহাতাব আকন্দ / ১৪৮ Time View
Update : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সলামুন আলা আদম এর উপর কিতাব ও তাঁর দ্বীন: কুরআনের আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ভূমিকা

মানবজাতির ইতিহাস শুরু হয় সালামুন আলা আদম -এর মাধ্যমে। তিনি শুধু প্রথম মানুষই নন, বরং আল্লাহর মনোনীত বান্দা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— সালামুন আলা আদম -এর উপর কি কোনো কিতাব নাযিল হয়েছিল? তিনি কোন দ্বীন অনুসরণ করেছিলেন? এই আলোচনায় আমরা কেবল কুরআনের আয়াতের ভিত্তিতে বিষয়টি বিশ্লেষণ করব।


১. সালামুন আলা আদম আল্লাহর মনোনীত প্রতিনিধি

কুরআন সালামুন আলা আদম- এর মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে:

“তারপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন, তাঁর তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে হেদায়েত দিলেন।”
(সূরা ত্বা-হা ২০:১২২)

আরও বলা হয়েছে:

“আর তিনি আদমকে সব নাম শিক্ষা দিলেন…”
(সূরা আল-বাকারা ২:৩১)

এ থেকে বোঝা যায়, সালামুন আলা আদম সরাসরি আল্লাহর শিক্ষা ও নির্দেশপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষ ছিলেন না; বরং শুরু থেকেই ওহি ও হেদায়েতপ্রাপ্ত।


২. প্রত্যেক উম্মতের কাছে রাসূল প্রেরণ

কুরআনের একটি মৌলিক নীতি হলো— আল্লাহ কোনো জাতিকে হেদায়েতবিহীন রাখেন না।

“আর নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি…” (সূরা নাহল ১৬:৩৬)

“এমন কোনো জাতি নেই যার মধ্যে সতর্ককারী আসেনি।” (সূরা ফাতির ৩৫:২৪)

অতএব, মানবজাতির প্রথম প্রজন্মের ক্ষেত্রেও হেদায়েত ও রিসালাত থাকা যৌক্তিক— কারণ সালামুন আলা আদম-ই ছিলেন সেই প্রথম পথপ্রদর্শক।


৩. রাসূলগণ কিতাবসহ প্রেরিত হন

কুরআনে বলা হয়েছে:

“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে স্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মীযান নাযিল করেছি…” (সূরা হাদীদ ৫৭:২৫)

আরও বলা হয়েছে:

“মানুষ এক উম্মত ছিল; তারপর আল্লাহ নবীদেরকে প্রেরণ করলেন… এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করলেন…” (সূরা আল-বাকারা ২:২১৩)

এই আয়াতগুলো একটি সাধারণ নীতি দিচ্ছে— নবী ও রাসূলগণ কিতাব বা ওহিসহ প্রেরিত হন।

রাসূলের দায়িত্ব সম্পর্কেও কুরআন বলে:

“তিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন…” (সূরা জুমু‘আ ৬২:২)

অতএব, রিসালাতের কাজের অংশই হলো কিতাব পৌঁছে দেওয়া ও শিক্ষা দেওয়া।


৪. সব কিতাবের নাম আমাদের জানানো হয়নি

কুরআন স্পষ্ট জানায় যে সব রাসূলের বিবরণ আমাদের দেওয়া হয়নি:

“এবং এমন অনেক রাসূল আছে যাদের কাহিনি আমি তোমাকে বলিনি…” (সূরা নিসা ৪:১৬৪)

“তাদের কারো কাহিনি আমি তোমাকে বর্ণনা করেছি এবং কারো কাহিনি বর্ণনা করিনি…”
(সূরা মু’মিন ৪০:৭৮)

এ থেকে বোঝা যায়, সব নবী-রাসূল ও সব কিতাবের নাম কুরআনে উল্লেখ নেই। আমরা কেবল তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআনের নাম জানি; বাকিগুলোর নাম আমাদের জানানো হয়নি।

সুতরাং কুরআনের আলোকে বলা যায়— সালামুন আলা আদম -এর উপর কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের নাম কুরআনে উল্লেখ নেই; তবে কুরআনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী রাসূলগণ ওহি ও কিতাবসহ প্রেরিত হন। তাঁর কিতাবের নাম আমাদের অজানা হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত তিনি অবশ্যই পেয়েছিলেন।


৫. সালামুন আলা আদম কোন দ্বীন অনুসরণ করেছেন?

দ্বীনের বিষয়ে কুরআন অত্যন্ত স্পষ্ট:

“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন হলো ইসলাম।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯)

“যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কামনা করবে, তা কখনো গ্রহণ করা হবে না…” (সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫)

আরও বলা হয়েছে:

“তিনি তোমাদের জন্য সেই দ্বীন নির্ধারণ করেছেন যা তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন…” (সূরা আশ-শূরা ৪২:১৩)

অতএব, সব নবীর মূল দাওয়াত এক— আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, অর্থাৎ ইসলাম। সালামুন আলা আদম -ও এই তাওহীদের দ্বীনই অনুসরণ ও শিক্ষা দিয়েছেন।


উপসংহার

কুরআনের আলোকে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পাই:

  • সালামুন আলা আদম ছিলেন আল্লাহর মনোনীত ও হেদায়েতপ্রাপ্ত বান্দা।
  • প্রত্যেক উম্মতের কাছে রাসূল প্রেরিত হয়েছে।
  • রাসূলগণ কিতাব ও ওহিসহ প্রেরিত হন এবং কিতাব তেলাওয়াত ও শিক্ষা দেন।
  • সব কিতাবের নাম কুরআনে উল্লেখ নেই।
  • দ্বীন একটাই— ইসলাম।

সুতরাং কুরআনের ভিত্তিতে বলা যায়— সালামুন আলা আদম আল্লাহর ওহি ও হেদায়েতপ্রাপ্ত ছিলেন; তাঁর কিতাবের নির্দিষ্ট নাম আমাদের জানা নেই; এবং তিনি আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের একমাত্র দ্বীন— ইসলাম— অনুসরণ করেছেন।

আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।

Print this entry


আপনার মতামত লিখুন :
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা

Follow our Facebook Page

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x