মানবজাতির ইতিহাস শুরু হয় সালামুন আলা আদম -এর মাধ্যমে। তিনি শুধু প্রথম মানুষই নন, বরং আল্লাহর মনোনীত বান্দা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— সালামুন আলা আদম -এর উপর কি কোনো কিতাব নাযিল হয়েছিল? তিনি কোন দ্বীন অনুসরণ করেছিলেন? এই আলোচনায় আমরা কেবল কুরআনের আয়াতের ভিত্তিতে বিষয়টি বিশ্লেষণ করব।
কুরআন সালামুন আলা আদম- এর মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে:
“তারপর তার প্রতিপালক তাকে মনোনীত করলেন, তাঁর তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে হেদায়েত দিলেন।”
(সূরা ত্বা-হা ২০:১২২)
আরও বলা হয়েছে:
“আর তিনি আদমকে সব নাম শিক্ষা দিলেন…”
(সূরা আল-বাকারা ২:৩১)
এ থেকে বোঝা যায়, সালামুন আলা আদম সরাসরি আল্লাহর শিক্ষা ও নির্দেশপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষ ছিলেন না; বরং শুরু থেকেই ওহি ও হেদায়েতপ্রাপ্ত।
কুরআনের একটি মৌলিক নীতি হলো— আল্লাহ কোনো জাতিকে হেদায়েতবিহীন রাখেন না।
“আর নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি…” (সূরা নাহল ১৬:৩৬)
“এমন কোনো জাতি নেই যার মধ্যে সতর্ককারী আসেনি।” (সূরা ফাতির ৩৫:২৪)
অতএব, মানবজাতির প্রথম প্রজন্মের ক্ষেত্রেও হেদায়েত ও রিসালাত থাকা যৌক্তিক— কারণ সালামুন আলা আদম-ই ছিলেন সেই প্রথম পথপ্রদর্শক।
কুরআনে বলা হয়েছে:
“নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে স্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মীযান নাযিল করেছি…” (সূরা হাদীদ ৫৭:২৫)
আরও বলা হয়েছে:
“মানুষ এক উম্মত ছিল; তারপর আল্লাহ নবীদেরকে প্রেরণ করলেন… এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব নাযিল করলেন…” (সূরা আল-বাকারা ২:২১৩)
এই আয়াতগুলো একটি সাধারণ নীতি দিচ্ছে— নবী ও রাসূলগণ কিতাব বা ওহিসহ প্রেরিত হন।
রাসূলের দায়িত্ব সম্পর্কেও কুরআন বলে:
“তিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন…” (সূরা জুমু‘আ ৬২:২)
অতএব, রিসালাতের কাজের অংশই হলো কিতাব পৌঁছে দেওয়া ও শিক্ষা দেওয়া।
কুরআন স্পষ্ট জানায় যে সব রাসূলের বিবরণ আমাদের দেওয়া হয়নি:
“এবং এমন অনেক রাসূল আছে যাদের কাহিনি আমি তোমাকে বলিনি…” (সূরা নিসা ৪:১৬৪)
“তাদের কারো কাহিনি আমি তোমাকে বর্ণনা করেছি এবং কারো কাহিনি বর্ণনা করিনি…”
(সূরা মু’মিন ৪০:৭৮)
এ থেকে বোঝা যায়, সব নবী-রাসূল ও সব কিতাবের নাম কুরআনে উল্লেখ নেই। আমরা কেবল তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআনের নাম জানি; বাকিগুলোর নাম আমাদের জানানো হয়নি।
সুতরাং কুরআনের আলোকে বলা যায়— সালামুন আলা আদম -এর উপর কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের নাম কুরআনে উল্লেখ নেই; তবে কুরআনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী রাসূলগণ ওহি ও কিতাবসহ প্রেরিত হন। তাঁর কিতাবের নাম আমাদের অজানা হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়েত তিনি অবশ্যই পেয়েছিলেন।
দ্বীনের বিষয়ে কুরআন অত্যন্ত স্পষ্ট:
“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন হলো ইসলাম।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৯)
“যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কামনা করবে, তা কখনো গ্রহণ করা হবে না…” (সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫)
আরও বলা হয়েছে:
“তিনি তোমাদের জন্য সেই দ্বীন নির্ধারণ করেছেন যা তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন…” (সূরা আশ-শূরা ৪২:১৩)
অতএব, সব নবীর মূল দাওয়াত এক— আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, অর্থাৎ ইসলাম। সালামুন আলা আদম -ও এই তাওহীদের দ্বীনই অনুসরণ ও শিক্ষা দিয়েছেন।
কুরআনের আলোকে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পাই:
সুতরাং কুরআনের ভিত্তিতে বলা যায়— সালামুন আলা আদম আল্লাহর ওহি ও হেদায়েতপ্রাপ্ত ছিলেন; তাঁর কিতাবের নির্দিষ্ট নাম আমাদের জানা নেই; এবং তিনি আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের একমাত্র দ্বীন— ইসলাম— অনুসরণ করেছেন।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।
